দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেছে স্পেন। টেক্সাসের আরলিংটনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে জয় তুলে নেওয়া ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে।
আগামী রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ী দল।
ম্যাচের ২২তম মিনিটে লামিনে ইয়ামালের ওপর ফাউলের কারণে পাওয়া পেনাল্টি থেকে স্পেনকে এগিয়ে দেন মিকেল ওইয়ারজাবাল। ১৯তম জন্মদিনের একদিন পর মাঠে নেমে ইয়ামাল দারুণ দক্ষতায় বল নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে ফ্রান্সের ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়ে তাকে ফাউল করেন। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজালে স্পট কিক থেকে লক্ষ্যভেদ করেন ওইয়ারজাবাল।
চলতি বিশ্বকাপে এটি ওইয়ারজাবালের পঞ্চম গোল। একই সঙ্গে এই আসরে সাত ম্যাচের মধ্যে প্রথমবারের মতো স্পেন বা ফ্রান্সের কোনো দল পিছিয়ে পড়ল। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা ফ্রান্স এই বিশ্বকাপে মাত্র তৃতীয় গোল হজম করলেও স্পেন এখন পর্যন্ত মাত্র একটি গোল খেয়েছে।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৮তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন স্পেনের ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরো। সতীর্থের আক্রমণ থেকে তৈরি সুযোগে কাছ থেকে ট্যাপ-ইনে ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মেনিয়াঁকে পরাস্ত করে জয় প্রায় নিশ্চিত করেন তিনি।
এই হারের ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় ফ্রান্সের। ২০১৮ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে রানার্সআপ হয়েছিল দিদিয়ের দেশমের দল।
ম্যাচের অষ্টম মিনিটে দানি ওলমোর ওপর ফাউল করায় ফ্রান্সের মিডফিল্ডার আদ্রিয়াঁ রাবিও হলুদ কার্ড দেখেন। ওই ফাউল থেকে পাওয়া ফ্রি-কিকে আলেক্স বায়েনার শট ফ্রান্সের রক্ষণভাগে বাধা পায়।
কোয়ার্টার ফাইনালে চোট কাটিয়ে ফেরা কিলিয়ান এমবাপ্পে এদিন শুরুর একাদশে খেললেও স্পেনের শক্ত রক্ষণ ভেদ করতে পারেননি। মরক্কোর বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপে নিজের অষ্টম গোলের মাধ্যমে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তিনি লিওনেল মেসির সমতায় উঠেছিলেন। তবে টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ২১ গোল নিয়ে এখনো সবার ওপরে রয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি; এমবাপ্পের গোলসংখ্যা তার চেয়ে একটি কম।
