গত সপ্তাহে পাকিস্তানের বিমান হামলার জবাবে আফগানিস্তানের পাল্টা আক্রমণ এবং তার পর পাকিস্তানের বড় ধরনের সামরিক অভিযানে দুই দেশের সীমান্ত এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। সীমান্ত বাহিনী ও বিমান বাহিনীর সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত উভয় পক্ষের অন্তত ১৭৩ জন সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, গত রোববার নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাতে খাইবার পাখতুনখাওয়া অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে অতর্কিত হামলা চালায় আফগান সেনারা। তাদের দাবি, এতে পাকিস্তানের অন্তত ৪০টি সীমান্ত চৌকি দখল করা হয়েছে, বহু সেনা নিহত হয়েছে এবং কয়েকজনকে জীবিত আটক করে আফগানিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার জবাবে শুক্রবার ভোররাত ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গজব লিল হক’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে পাকিস্তান। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ–এর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি জানান, পাকিস্তান বিমান বাহিনী ও স্থলবাহিনীর যৌথ অভিযানে অন্তত ১৩৩ জন আফগান সেনা নিহত এবং দুই শতাধিক আহত হয়েছেন। অভিযানে আফগান বাহিনীর একটি বড় গোলাবারুদের ডিপো ধ্বংস হয়েছে এবং কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহার–এর কয়েকটি সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেছে ইসলামাবাদ।
তোলো নিউজ–এর প্রতিবেদনে উভয় পক্ষের তথ্য বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, আফগান হামলায় অন্তত ৪০ পাকিস্তানি সেনা এবং পাকিস্তানের পাল্টা অভিযানে ১৩৩ আফগান সেনা নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৭৩ জনে।
বর্তমানে সীমান্তজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা আফগানিস্তানের একাধিক সীমান্ত চৌকি ধ্বংস করেছে। অন্যদিকে আফগান পক্ষও নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, দুই প্রতিবেশী দেশের এই সরাসরি সামরিক সংঘাত দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
