মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ইরানের রাজধানী তেহরান ও গুরুত্বপূর্ণ শহর ইসফাহানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ইসফাহানের পাহাড়ি এলাকায় ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে এক মাসের সংঘাতে সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণ ঘটে এবং আকাশজুড়ে আগুনের আভা দেখা যায়।
তেহরানে দফায় দফায় হামলার ফলে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রাজধানীর কাছাকাছি কারাজ শহরের একটি বড় ওষুধ কারখানায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। এতে ক্যানসার ও এমএস রোগের ওষুধ তৈরির কাঁচামাল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া চলতি সপ্তাহে ইরানের বেসামরিক পারমাণবিক কেন্দ্র, ইস্পাত কারখানা, পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্ট ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও হামলার অভিযোগ উঠেছে। উত্তর তেহরানে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও তার দুই সন্তান নিহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, প্রয়োজনে ইরানের তেল, গ্যাস ও পানি শোধন কেন্দ্রও ধ্বংস করা হবে।
হামলার জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। বাহিনীর মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দখলের স্বপ্ন দেখলে যুক্তরাষ্ট্রকে তার মূল্য দিতে হবে।
ইরান আরও দাবি করেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের দুটি উন্নত এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং ইসরায়েলের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
অন্যদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই দেশের ভেতরে ভিন্নমত দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার সকালে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, বিদেশে হামলার তথ্য সরবরাহ বা বিক্ষোভে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করছেন। তবে আইআরজিসি আপাতত কোনো সমঝোতায় রাজি নয়। পেজেশকিয়ান বলেছেন, দেশের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
