ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরান তেল আবিব-এ শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই হামলায় প্রথমবারের মতো ‘ক্লাস্টার ওয়ারহেড’ বা গুচ্ছ বোমা ব্যবহার করা হয়েছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, অভিযানে ‘খোররামশহর-৪’ এবং ‘কদর’ মডেলের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রে একাধিক সাব-মিউনিশন বা ছোট বোমা সংযুক্ত ছিল, যা মাঝ আকাশে ছড়িয়ে পড়ে আঘাত হানতে সক্ষম। অন্যদিকে ইসরাইল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তেল আবিবের জনবহুল ও সামরিক গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকায় হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্লাস্টার বোমা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রতিরোধ করা অত্যন্ত কঠিন। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আল জাজিরা-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, লারিজানি বা অন্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে পড়বে না। তিনি জানান, গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দ্রুত নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, পরাজয় স্বীকার ও ক্ষতিপূরণ ছাড়া শান্তির কোনো সুযোগ নেই।
এদিকে অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মোসাদ-এর হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে কুরোশ কেইভানি নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে তেহরান।
সম্প্রতি তেহরানে আইআরজিসি সদর দপ্তর লক্ষ্য করে ইসরাইলি বিমান হামলার পর পাল্টা জবাবে ইরান বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্র-এর কাছে একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানার কথা স্বীকার করেছে। তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা আইএইএ জানিয়েছে, এতে কোনো তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। উল্লেখ্য, দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ইসরাইলে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
সূত্র: সিএনএন
