দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি টারবাইন ভবনে ড্রোন আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (International Atomic Energy Agency (IAEA))। হামলার ফলে ভবনের দেয়ালে একটি গর্ত সৃষ্টি হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইএইএ জানায়, বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ তাদের এ ঘটনার বিষয়ে অবহিত করেছে। বর্তমানে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে আইএইএর একটি পর্যবেক্ষক দল অবস্থান করছে।
ঘটনার পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইএইএর মহাপরিচালক Rafael Grossi। তিনি বলেন, “পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা করা আগুন নিয়ে খেলার মতো।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আইএইএ জানায়, তাদের পর্যবেক্ষক দল ক্ষতিগ্রস্ত টারবাইন ভবনটি সরেজমিনে পরিদর্শনের অনুমতি চেয়েছে। হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি এবং পারমাণবিক নিরাপত্তার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব খতিয়ে দেখতে চায় সংস্থাটি।
এদিকে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা Rosatom দাবি করেছে, ইউক্রেনীয় একটি ড্রোন জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। তবে এতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামের ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
রোসাটমের প্রধান Alexey Likhachev ঘটনাটিকে ‘ইচ্ছাকৃত হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ড্রোনের আঘাতে টারবাইন হলের দেয়ালে একটি গর্ত তৈরি হয়েছে।
তবে রুশ অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬ নম্বর পাওয়ার ইউনিটে ইউক্রেনীয় বাহিনী কোনো হামলা চালায়নি। রুশ পক্ষের দাবি ‘আরেকটি অপপ্রচারের কৌশল’ বলেও উল্লেখ করেছে কিয়েভ।
ইউক্রেনীয় বাহিনীর ভাষ্য, তারা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন কঠোরভাবে মেনে চলে এবং পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার সম্ভাব্য ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন।
উল্লেখ্য, Zaporizhzhia Nuclear Power Plant ইউরোপের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটি বারবার হামলা, গোলাবর্ষণ এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে পারমাণবিক দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বারবার সামনে এসেছে।
সূত্র: রয়টার্স
