যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন চুক্তির লক্ষ্যে ইরান আলোচনায় বসতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে তেহরানকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র, তাদের সেনা বা আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর কোনো ধরনের হামলা হলে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও নজিরবিহীন সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ট্রাম্পের দাবি—মার্কিন সামরিক অভিযান এবং কঠোর অর্থনৈতিক চাপের মুখে ইরানের নেতৃত্ব এখন আলোচনার পথ খুঁজছে। তেহরান বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনার বার্তা পাঠালেও ওয়াশিংটন নিজেদের কৌশলগত অবস্থান ও শর্ত বজায় রেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনা, সামরিক স্থাপনা বা যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর ইরান কোনো হামলা চালালে তার পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। প্রয়োজনে এমন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যা ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতাকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর টানা দশম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এর পাল্টা জবাবে ইরানও সম্প্রতি প্রতিবেশী কুয়েতের সামরিক ও কৌশলগত এলাকায় হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাল্টাপাল্টি হামলা ও কূটনৈতিক চাপের এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক আলোচনা ও সামরিক পরিস্থিতির ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
