বাড়িবিনোদনএফডিসিতে নতুন কমিটি নিয়ে বিতর্ক

এফডিসিতে নতুন কমিটি নিয়ে বিতর্ক

চলচ্চিত্রাঙ্গনে নতুনভাবে গঠিত ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী চলচ্চিত্র পরিষদ’কে ঘিরে দেখা দিয়েছে তীব্র বিতর্ক ও অসন্তোষ। বিএনপিপন্থী একাধিক সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠক অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ও ত্যাগী ব্যক্তিদের উপেক্ষা করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়ে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জানা গেছে, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফ উদ্দীন আহমেদ উজ্জ্বল-এর উদ্যোগে সম্প্রতি সংগঠনটির নতুন কমিটি গঠন করা হয়। এতে সভাপতি করা হয়েছে চলচ্চিত্র পরিচালক বদিউল আলম খোকন-কে। তাকে ঘিরে এরই মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অতীতে তিনি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন, ১৫ আগস্ট পালন করেছেন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আলোচিত ক্যাসিনোকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট-এর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নানা বিতর্কের কথা উল্লেখ করেছেন ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।
সংগঠনটির মহাসচিব করা হয়েছে অভিনেতা এবিএম সোহেল রশিদ-কে। তার বিরুদ্ধেও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে রাখা হয়েছে চলচ্চিত্র পরিচালক মনজুরুল ইসলাম মেঘ-কে, যিনি ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৪ আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ক্ষুব্ধ বিএনপিপন্থী সাংস্কৃতিক কর্মীদের দাবি, গত ১৭ বছর ধরে যারা দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন, বিএনপির সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং সংগঠনের আগের কমিটিগুলোতে দায়িত্ব পালন করেছেন—তাদের কাউকেই মূল্যায়ন করা হয়নি। এমনকি কমিটি গঠনের আগে তাদের মতামতও নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
এদিকে গত ২৫ মে সংগঠনটির সভাপতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ব্যানার প্রকাশ করেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, আগামী ৩০ মে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এফডিসি গেটে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, এ ধরনের কোনো অনুষ্ঠানের বিষয়ে তারেক রহমান বা তার দপ্তরের কেউ অবগত নন। ফলে বিষয়টিকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে সংগঠনটির উদ্দেশ্য ও কর্মকাণ্ড নিয়ে।
বিএনপন্থী সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকের আশঙ্কা, ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল ও দলীয় ভাবমূর্তি ব্যবহার করতেই এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সাংগঠনিক অস্থিরতা আরও বাড়াতে পারে।

Notify of
0 Comments
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
আরো দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ