ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। রোববার (৭ জুন) সকাল ৮টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। একই দাবিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জারি করা সাম্প্রতিক নোটিশ প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন দাবিতে তারা আন্দোলন করে আসছেন। এর অংশ হিসেবে গত ৪ জুন চমেক হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে হাসপাতাল পরিচালকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
আন্দোলনকারীরা দাবি বাস্তবায়নের জন্য শুক্রবার রাত পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো কার্যকর উদ্যোগ না আসায় শনিবার রাতে দেশের অন্যান্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত বাতিল, স্বাস্থ্যকর্মী নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বেতন কাঠামো পুনর্নির্ধারণ, বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর নির্ধারণ, বিএমডিসি আইন সংস্কার এবং বিভিন্ন ভর্তি পরীক্ষার ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ।
আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও রোববার বেলা ১১টার পর থেকে ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
কর্মবিরতির পাশাপাশি রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় চমেক হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাকিব হোসেন বলেন, “আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজন হলে সারা দেশে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
এদিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালের সেবাকাজে প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সচল রাখতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।
