সিলেটের হাই-টেক পার্ক দ্রুত সচল করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২ মে) সিলেট নগর ভবন প্রাঙ্গনে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিলেটে একটি আইটি পার্ক স্থাপিত হলেও তা এখনো পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। তবে এটি দ্রুত চালু করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই পার্কটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, আইটি পার্ক চালু হলে সিলেটের কর্মসংস্থান পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে অনেক তরুণ ফ্রিল্যান্সিং, ডেটা প্রসেসিংসহ আইটি খাতের বিভিন্ন কাজে যুক্ত থাকলেও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে তারা তাদের দক্ষতার পূর্ণ ব্যবহার করতে পারছেন না। পার্কটি চালু হলে তারা একটি উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম পাবে এবং আয় বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
যেসব তরুণ কাজ করতে আগ্রহী কিন্তু সুযোগ পাচ্ছেন না, তাদের জন্যও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, বিদ্যমান আইটি পেশাজীবীদের পাশাপাশি নতুনদেরও এখানে কাজের সুযোগ দেওয়া হবে।
সিলেটে শিল্পকারখানা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের স্বল্পতার কারণে বেকারত্ব বেশি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সমস্যা সমাধানে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আইটি পার্ক চালুর পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে কাজ চলছে।
তিনি দেশের ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটগুলো আধুনিকায়নের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। বলেন, বিভিন্ন স্তরের মানুষকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। এর ফলে দেশে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং বিদেশে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের মেয়াদ মাত্র আড়াই মাস হলেও এরই মধ্যে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। পরিশ্রম ও সদিচ্ছা থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই দেশের সামগ্রিক কর্মসংস্থান পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং তরুণ সমাজ তাদের কাঙ্ক্ষিত কর্মক্ষেত্র খুঁজে পাবে।
