শনিবার, জানুয়ারি ২৮, ২০২৩
No menu items!
বাড়িপ্রবাসী সংবাদধূমকেতু ক্লাবের পক্ষ থেকে আলহাজ্ব সামসুল হক পালোয়ানকে বিশেষ সংবর্ধনা

ধূমকেতু ক্লাবের পক্ষ থেকে আলহাজ্ব সামসুল হক পালোয়ানকে বিশেষ সংবর্ধনা

ধূমকেতু ক্লাব কুটবাড়ীর পক্ষ থেকে আলহাজ্ব সামসুল হক পালোয়ান বিশেষকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানের এলাকার স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এক নজরে আলহাজ্ব সামসুল হক পালোয়ানঃ
শিক্ষানুরাগী,সমাজসেবক,আলোর ফেরিওয়ালা আলহাজ্ব সামসুল হক পালোয়ান (মানবতার প্রতীক) ১৯৬২ সালের ৫ই মে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার ২ নং চাপাইর ইউনিয়নের বড় গোবিন্দপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম ফালো পালোয়ান ছিলেন মানবতার আরেক মূর্ত প্রতীক এবং চাপাইর ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রিয় ও জননন্দিত সদস্য যার কথা চাপাইর ইউনিয়নের মানুষ এখনো শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। মাতা ডালিমন নেছা ছিলেন একজন গৃহিণী। আলহাজ্ব সামসুল হক পালোয়ান ১৯৭৯ সালে গোলাম নবী মডেল পাইলট হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক স্তর পেরিয়ে ভর্তি হন কালিয়াকৈর ডিগ্রি কলেজে সেখান থেকে ১৯৮১ সালে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে ভর্তি হন মির্জাপুর ইউনিভার্সিটি কলেজে । আলহাজ্ব শামসুল হক পালোয়ান এক পুত্র সন্তান এবং তিন কন্যা সন্তানের জনক।
পরিবার-পরিজন:
গাজীপুর জেলাধীন কালিয়াকৈর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পালোয়ান পরিবারে আলহাজ্ব সামসুল হক পালোয়ান জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ফালো পালোয়ানের অবদান ছিলো চোখে পড়ার মতো। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন। বিশেষে করে মুক্তিযোদ্ধাদের খাওয়া দাওয়া ও থাকার ব্যবস্থা করেছেন )।এছাড়া এলাকার বিভিন্ন উৎসব, গান, খেলাধুলার উন্নয়নের জন্য তিনি সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ফালো পালোয়ানের ১২ জন সন্তান রেখে গেছেন। ভাই বোনের মধ্যে আলহাজ্ব সামসুল হক পালোয়ান পালোয়ান সপ্তম ।
আলহাজ্ব হক পালোয়ানের স্ত্রী একজন আদর্শবান গৃহিণী।তিনি তিন কন্যা সন্তান এবং এক পুত্র সন্তানের জনক। পুত্র সন্তান দেশের বাইরে এভিয়েশন এয়ারওয়ে অপারেশন ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে অধ্যায়নরত। (তার বড় মেয়ে এবং মেঝ মেয়ে উভয়েই উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত দুজনেই বিবাহিত )সর্বকনিষ্ঠ মেয়ে উচ্চমাধ্যমিকে পড়াশোনা করছে ।
কর্মজীবন:
আলহাজ্ব সামসুল হক পালোয়ান ১৯৮৪ সালে সিঙ্গাপুরে হোটেল ম্যানেজমেন্ট এর মাধ্যমেতার কর্মজীবন শুরু করেন । এরপর ১৯৮৯ সালে সৌদি আরবে যান। বর্তমানে সেখানে তিনি, প্রিন্স ফয়সাল বিন খালেদ বিন আব্দুলআজিজ আল সৌদ এর প্রাইভেট সেক্রেটারি(যিনি কিং খালিদের (১৯৭৫-১৯৮২)পুত্র ।
প্রিন্স ফয়সাল বিন খালেদ ছিলেন সাবেক গভর্নর আসির প্রদেশ( ২০০৪-২০১৮) এবং বর্তমানে কিং সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদের অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা। আলহাজ্ব শামসুল হক পালোয়ান প্রিন্স ফয়সাল বিন খালেদ কোম্পানি এবং তার অশ্বারোহী ক্লাব( Red stable equestrian club) এরএকজন অন্যতম উপদেষ্টা। শুধু তাই নয় প্রিন্স ফয়সাল বিন খালিদ কোম্পানিতে তার নিজ গ্রাম বড় গোবিন্দপুর এবং তার নিজ ইউনিয়ন চাপাইর ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে থেকে প্রায় তিন শতাধিক শ্রমিকের কর্মসংস্থান তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন এবং এখনও তার সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।
সমাজকল্যাণ ক্ষেত্রে আলহাজ্ব সামসুল হক পালোয়ানের অবদান :
নিজ এলাকায় সাধারণ জণগনের মাঝে শিক্ষার দ্যুতি ছড়ানোর জন্য ১৯৯২ সালে বাবার নামে প্রতিষ্ঠা করেন ফালো পালোয়ান উচ্চ বিদ্যালয়। তিনি এবং তার পরিবারের সকল সদস্য গণের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়ের নামে ১৫০ শতাংশ জমি দিয়েছেন। যেখানে হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা স্বপ্ন বুনন করে চলছে। বড় গোবিন্দপুর ঈদগাহ ময়দান তৈরির জন্য ২০ শতাংশ জমি দিয়েছেন। এলাকায় রাস্তাঘাটের উন্নয়ে তার অবদান রয়েছে। ২০১৯ সালে পাইকপাড়া থেকে সানিউর রহমানের বাড়ি পর্যন্ত পর্যন্ত ২ কিলোমিটার পাকা রাস্তা করণ করা হয়। এ রাস্তা নির্মাণের পিছনে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে মূলত তার উদ্যোগেই এবং তিনিই প্রথমে রাস্তা করার জন্য প্রস্তাব দেন ।তিনি ছিলেন সমন্বয়কারী ,উদ্যোক্তা, প্রস্তাবক।
পাইকপাড়া বাজার পার হয়ে ফালো পালোয়ান স্কুলে যাওয়ার আগে যেই ব্রিজ অবস্থিত সেই ব্রিজ নির্মাণে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
বড় গোবিন্দপুর গ্রামে বিদ্যুতায়নের জন্য তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।২০০৫ সালে তিনি তার নিজ উদ্যোগে এবং তত্ত্বাবধানে বড় গোবিন্দপুর বাসীর সকলের সাথে একমত হয়ে এলাকায় বিদ্যুৎ আনেন এবং তিনি ছিলেন নেতৃত্ব দানকারী। বড় গোবিন্দপুর পোস্ট অফিসের জমি দানকারী। পোস্ট অফিস প্রতিষ্ঠায় তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তার নিজ গ্রামে মসজিদ কমিটির সভাপতি এবং এবং অন্যতম দাতা। বড় গোবিন্দপুর সহ চাঁপাইর ইউনিয়নের প্রায় সকল মসজিদ,মাদ্রাসায়,তার অনুদান রয়েছে।
খেলাধুলা এবং সংস্কৃতিতে অবদান:
এলাকায় খেলাধুলার উন্নয়নে রয়েছে তার অনবদ্য ভূমিকা। তিনি নিজেও খ্যাতিমান ফুটবলার ছিলেন । তরুণ বয়সে তিনি খুব ভালো ফুটবল খেলতেন ।স্ট্রাইকার হিসেবে তিনি খেলতেন এবং অনেক দ্রুত বেগে দৌড়াতে পারায় লোকজন তাকে ঝটিকা বলে ডাকত । ২০১৮ সালে বড় গোবিন্দপুর বনাম নামাশুলাই খেলায় অংশগ্রহণ করে তার নেতৃত্বে বিজয় লাভ করেন। এছাড়া প্রত্যেক ঈদে এবং অন্যান্য দিবসে ফুটবল ক্রিকেট ,ব্যাডমিন্টন ইত্যাদি খেলা আয়োজনে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য।
বিভিন্ন উৎসবে এবং শীত কালীন সময়ে বড় গোবিন্দপুর গ্রাম সহ তথা চাপাইর ইউনিয়নে লোক গান ,পল্লীগান ,ঈমান যাত্রা ইত্যাদি জনপ্রিয় গানের আসর আয়োজন করে থাকেন সেখানে তার ভূমিকা থাকে এবং তিনি সেসব অনুষ্ঠানের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেন। শুধু দেশে নয় দেশের বাইরেও খেলাধুলা এবং সংস্কৃতিতে তার অবদান রয়েছে। নজরুল একাডেমী সৌদি আরব শাখার তিনি অন্যতম একজন সদস্য দেশের পাশাপাশি বিদেশে এসে বাংলাদেশের সংস্কৃতি আরব ভাষাভাষী মানুষের মাঝে তুলে ধরতে কাজ করে যাচ্ছেন।সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে(২০১৮-২০১৯ চলমান) বাংলাদেশী ছাত্র ছাত্রীদের কে তিনি সহযোগিতা এবং দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছেন।
মানবতার কল্যাণে এলাকার তরুণ ও শিক্ষিত যুবকদের নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছেন বড় গোবিন্দপুর ব্লাড ডোনেশন ক্লাব।সংগঠনটির উপদেষ্টামন্ডলী সম্মানিত সদস্য এবং অন্যতম দাতা সদস্য।
শৈশবের দিন ও ছাত্র জীবন :
তার শৈশব কালের একটি অংশ তার নিজ গ্রাম বড় গোবিন্দপুরে কাটে সেখানে তিনি ঠাকুর চালা প্রাথমিক বিদ্যালযয়ে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে তারপর চলে যান তার বোনের বাড়ি চাপাইর ইউনিয়নের বাগ চাঁপাইর গ্রামে।সেখানে তিনি দীর্ঘদিন থেকে তার মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পড়াশোনা শেষ করেন। মির্জাপুর ইউনিভার্সিটি কলেজ, মির্জাপুর টাঙ্গাইল থেকে স্নাতক পর্যায় শেষ করেন(রাষ্ট্রবিজ্ঞান)। মির্জাপুর ইউনিভার্সিটি কলেজে থাকাকালীন সময়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তিনি ক্রীড়া সম্পাদক পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন ।
ভ্রমণ পছন্দ করেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। তিনিও তার ব্যতিক্রম নন দেশ ভ্রমণ তার এক ধরণের নেশা।সময় পেলেই উড়াল দেন বিভিন্ন দেশে। তিনি ভ্রমণ করেছেন অনেক দেশ তন্মধ্যে রয়েছে আমেরিকা ,ইংল্যান্ড ,সুইজারল্যান্ড,ফ্রান্স, সিঙ্গাপুর,সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, ইন্ডিয়া, মরোক্ক, লেবানন, মালয়েশিয়া, চায়না , থাইল্যান্ড।
পছন্দের খাবার ও শখ(পছন্দের বিষয়):
তিনি একজন ভোজন রসিক মানুষ । তার পছন্দের খাবার তালিকায় রয়েছে- দেশি মাছ তন্মধ্যে চিতল মাছ,গাভীর দুধ,মধু।
বিদেশীখাবারসৌদিআরব(কাবসা,মান্দি,রোজবুখারী,কুনাফা প্রভৃতি), লেবানিজ(কুফতা,ফাটুউস,হুম্মুস),ইতালিয়ান ম্যাকারোনা,চিকেন পিজ্জা এছাড়া রয়েছে চিকেন গ্রিল,বারবিকিউ চিকেন, হ্যামবার্গার, স্টিমড ব্রুকলি, এবং সালাদ।খেলারধুলার মধ্যে রয়েছে- (ফুটবল), ব্যাডমিন্টন । এছাড়া নিজ গ্রামের মানুষের সাথে সময় কাটাতে দিন অনেক পছন্দ করেন
তার স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা :
বড় গোবিন্দপুর গ্রামটিকে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ গ্রাম হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন তার ছোট বেলা থেকেই এজন্য সবসময় চেষ্টা করে যাচ্ছেন। অসহায় দুস্থদের স্বাবলম্বী করে তুলতে সহযোগিতা করছেন। বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত ফালো পালোয়ান উচ্চ বিদ্যালয়কে কলেজে উন্নীত করা তার একটি বড় স্বপ্ন। গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য একটি হাসপাতাল এবং ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারে একটি মাদ্রাসা স্থাপন করা তার আরেকটি সুদৃড় ইচ্ছা। এছাড়া দুস্থ অসহায়দের জন্য একটি এতিমখানা স্থাপন করার জন্য তিনি নিরলসভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন
সাবস্ক্রাইব
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
আরো দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ