গাজীপুরের শ্রীপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক অসহায় বিধবার বাড়ি মেরামত করতে গিয়ে নির্মম হামলার শিকার হয়েছেন তার ভাই মো. মোস্তফা (৫০)। হামলার সময় ভুক্তভোগীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং সঙ্গে থাকা নগদ ৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম মোস্তফাকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার (২১ জুন) বিকেলে এই বর্বরোচিত ঘটনার বিবরণ দিয়ে শ্রীপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের চকপাড়া এলাকায় মেহেরুন্নেছার স্বামীর ক্রয়কৃত একটি বাড়ি রয়েছে। মেহেরুন্নেছার স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে ওই পরিবারে কোনো ছেলে সন্তান না থাকায় তারা দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন।
সম্প্রতি স্থানীয়দের অনুমতি নিয়ে মেহেরুন্নেছার ভাই মো. মোস্তফা ওই জরাজীর্ণ বাড়িটির সংস্কারকাজ শুরু করেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কাজ শুরু করার দুই দিন আগে থেকেই স্থানীয় মজনু মিয়া, মোস্তফা, কাজীমুদ্দিন, রিমন, সিহাব ও খায়েশসহ একটি চক্র মুঠোফোনে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না দিলে ঘর মেরামত করতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয় তারা।
রোববার সকালে মোস্তফা রাজমিস্ত্রি নিয়ে বোনের বাড়ির সংস্কার কাজ তদারকি করতে যান। এ সময় অভিযুক্তরা দেশীয় ও ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দলবলসহ এসে কাজ বন্ধ করে দেয়। তারা পুনরায় ১০ লাখ টাকা দাবি করলে মোস্তফা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে এবং একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথা ও বাম বাহুতে কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। মোস্তফার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। যাওয়ার সময় মোস্তফার কাছে থাকা ঘর মেরামতের নগদ ৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
আহতের ছোট ভাই কলিম শরাফি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
”আমার ছোট বোনের স্বামী অনেক আগেই মারা গেছেন। ঘরে কোনো ছেলে সন্তান নেই, কেবল মেয়েরা রয়েছে। এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে কয়েকদিন ধরেই তারা ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছিল। আজ আমার বড় ভাইকে ছুরিকাঘাত করে তারা ৫ লাখ টাকা লুটে নিয়েছে।”
মেহেরুন্নেছার বড় মেয়ে বলেন,
”আমার বাবা পৈত্রিক ও ক্রয়সূত্রে এই জমির প্রকৃত মালিক। বাবার মৃত্যুর পর থেকেই এই চক্রটি ভুয়া ও জাল দলিল তৈরি করে জমিটি দখলের পাঁয়তারা করছে। ঘর মেরামত করতে গেলেই তারা চাঁদা চায় এবং আমার মামাকে কুপিয়ে আহত করে। আমরা প্রশাসনের কাছে এই অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার চাই।”
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত মো. মোস্তফা জানান, চাঁদা না দেওয়ায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে লম্বা ছুরি নিয়ে তার ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত মজনু মিয়া ও তার সহযোগীদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকেই তারা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম জানান,
”এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
