গাজীপুর মহানগরে ভুয়া ডিবি পুলিশ ও সাংবাদিক পরিচয়ে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সংঘবদ্ধ একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগ।
মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) অশোক কুমার পালের নেতৃত্বে শনিবার (২৪ জানুয়ারি)দিবাগত রাতে সদর মেট্রো থানাধীন চাকুলিয়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মফিজ উদ্দিন খান উচ্চ বিদ্যালয় ও চাপুলিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে মনসুর নামের এক ব্যক্তির টিনের ছাপরা ঘর থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন,রোমান হোসেন শুভ (২৫), শাহিন আলম (৪০), মোঃ ইউসুফ আলী, মোঃ সাইফুল ইসলাম (৩৬) এবং মোঃ কবির হোসেন (৩০)।
গ্রেফতারের পর তাদের দেহ তল্লাশি করে একটি হ্যান্ডকাফ, একটি ডিবি পুলিশের কটি, একটি লেজার লাইট, একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা, অনলাইন পোর্টালে ব্যবহৃত একটি মাউথ স্পিকার, ইউসুফ আলী নামীয় একটি পুলিশ আইডি কার্ড, ‘মাতৃবাংলা প্রেস’ লেখা দুটি ভুয়া প্রেস আইডি কার্ড, একটি পুরাতন কালো রঙের পালসার মোটরসাইকেল এবং একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন লাল-কালো রঙের প্লাটিনা মোটরসাইকেল উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ইন্সপেক্টর (মিডিয়া সেল) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান রোববার সাংবাদিকদের জানান, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে কখনো ডিবি পুলিশের সদস্য, আবার কখনো সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। বিভিন্ন অপরাধের ভয় দেখিয়ে তারা সাধারণ মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করত বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা রয়েছে। রোমান হোসেন শুভের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা, শাহিন আলমের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ ও একটি প্রতারণা মামলা রয়েছে। এছাড়া মোঃ ইউসুফ আলীর বিরুদ্ধে তিনটি যৌতুকের জন্য মারপিট মামলা, একটি ডাকাতির প্রস্তুতির মামলা, দুটি হত্যা মামলা, একটি মারামারি মামলা এবং একটি ওয়ারেন্ট মুলতবি রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
