কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা সীমান্তবর্তী নাফ নদীতে রোহিঙ্গা সশস্ত্র দলের গুলিবর্ষণ ও জেলেদের নৌকাসহ মালামাল লুটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুই রোহিঙ্গাকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) অধীনস্থ হ্নীলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাত ১২টার দিকে ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
আটক দুই রোহিঙ্গা হলেন উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫-এর ব্লক-২-এর বাসিন্দা জমির হোসেনের ছেলে ইমাম হোসেন (২৫) এবং ক্যাম্প-৪-এর ব্লক-বি-এর বাসিন্দা মো. আলীর ছেলে নুরুল আমিন (২৩)।
বিজিবি সূত্র জানায়, টেকনাফের হ্নীলা বিওপি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার উত্তরে এবং শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৪০০ মিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সুইচ গেট সংলগ্ন নাফ নদীতে দুই রোহিঙ্গা মাছ ধরছিলেন। এ সময় ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকায় থাকা সশস্ত্র একটি দল তাদের ধাওয়া করে এবং আনুমানিক তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ে।
পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে জেলেরা ১ নম্বর সুইচ গেটের অভ্যন্তরে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সশস্ত্র দলের সদস্যরা তাদের ব্যবহৃত ডিঙ্গি নৌকাটি দখলে নিয়ে বেঁধে টেনে মিয়ানমারের অভ্যন্তরের খরের দ্বীপের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
বিজিবির দাবি, জেলেদের নৌকা থেকে জাল সদৃশ কিছু বস্তু নিজেদের নৌকায় তুলে নেয় সশস্ত্র গ্রুপটি। পরে নাফ নদীর ১০০ থেকে ১৫০ মিটার অভ্যন্তরে নিয়ে নৌকাটি পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে হ্নীলা বিওপির একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালায়। এ সময় সশস্ত্র গ্রুপটি ডুবারচর এলাকা অতিক্রম করার সময় বিজিবি সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে আনুমানিক ৫ থেকে ৬ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। তবে গ্রুপটির সদস্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে আটক দুই রোহিঙ্গা মাদক আনতে নাফ নদীতে গিয়েছিলেন। বিষয়টি টের পেয়ে অপর একটি রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপ তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে নৌকায় থাকা মালামাল ছিনিয়ে নেয়।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর দুই রোহিঙ্গাকে বিজিবির হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বর্তমানে সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
