বাড়িঅপরাধঝিনাই নদীতে নৌকায় বসছে জুয়ার আসর স্থানীয়দের উদ্বেগ, প্রশাসনের অভিযানের আশ্বাস

ঝিনাই নদীতে নৌকায় বসছে জুয়ার আসর স্থানীয়দের উদ্বেগ, প্রশাসনের অভিযানের আশ্বাস

স্টাফ রিপোর্টার টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের পাশ দিয়ে প্রবাহিত ঝিনাই নদীর সুরুজ বরিল্লাঘাট এলাকায় নৌকায় বসিয়ে প্রকাশ্যে জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নদীতে নোঙর করা দুটি নৌকায় জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা লোকজন জড়ো হয়ে জুয়ায় অংশ নেন। এতে যুবসমাজের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার পাশাপাশি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও সামাজিক অবক্ষয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে নদীর মাঝখানে ভাসমান নৌকায় এই অবৈধ কার্যক্রম চললেও তা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নদীর অবস্থান ও প্রশাসনিক সীমারেখার জটিলতাকে কাজে লাগিয়ে জড়িতরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়িয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাই নদীর সুরুজ বরিল্লাঘাট এলাকায় প্রতিদিন দুপুরের পর থেকেই জুয়াড়িদের আনাগোনা শুরু হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এসব আসরে জেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ অংশ নিতে আসেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, প্রকাশ্যে চলা এই কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয় পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং তরুণদের একটি অংশ জুয়ার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এলাকাবাসী বলেন, “নদীতে নৌকা ভাসিয়ে দিনের পর দিন জুয়ার আসর চলছে। বিষয়টি অনেকেই জানেন, কিন্তু রহস্যজনক কারণে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। দ্রুত অভিযান চালিয়ে এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করা প্রয়োজন।”
আরেক বাসিন্দার দাবি, “জুয়ার কারণে অনেক পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিছু তরুণ নিয়মিত সেখানে সময় কাটাচ্ছে, যা সমাজের জন্য উদ্বেগের বিষয়।”
সচেতন মহলের মতে, নদীতে ভাসমান নৌকায় জুয়ার আসর বসানোর কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান এড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন জড়িতরা। ফলে বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা জরুরি।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, “ঝিনাই নদীর একটি অংশ টাঙ্গাইল সদর এবং অন্য অংশ কালিহাতী উপজেলার আওতাভুক্ত। এর আগেও জুয়াড়িদের ধরতে অভিযান পরিচালনার চেষ্টা করা হয়েছে। পুলিশ উপস্থিতি টের পেলে তারা নদীর অন্য অংশে সরে যায়। তবে তাদের শনাক্ত করে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং জুয়ার আসর বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ ও পুলিশের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ঝিনাই নদীতে জুয়ার আসর পরিচালনার বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের নজর রয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই, জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং কার্যকর অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করলে নদীকেন্দ্রিক এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ হবে এবং এলাকার সামাজিক পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে।

Notify of
0 Comments
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
আরো দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ