গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী মধ্যে পাড়া ফকির বাড়ি এলাকায় মধ্যরাতে এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় অমানবিক নির্যাতনে শাশুড়ি আসমা আক্তার (৫৫) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুত্রবধূ আরিফা আক্তার (২২) গুরুতর আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দিবাগত গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ির মালিক আনিসুর রহমান আনিস মিয়া ও তার ছেলে স্থানীয় একটি স্কুলে নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব পালনের জন্য রাতে বাড়ির বাইরে ছিলেন। এ সুযোগে একদল সশস্ত্র ডাকাত গেটের তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। পরে তারা ঘরে থাকা দুই নারীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে।
ডাকাতদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে শাশুড়ি ও পুত্রবধূকে বেঁধে ফেলে নির্যাতন চালানো হয়। এতে আসমা আক্তার গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। অচেতন অবস্থায় আরিফা আক্তারকে বুধবার সকালে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দুপুরে তাকে বাসায় নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ সময় ডাকাতরা নগদ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
প্রতিবেশীরা জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং পরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ডাকাতরা আসমা আক্তারের গলায় কাপড় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। পুত্রবধূর শরীরেও নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। তবে ধর্ষণের বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়; মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।
গাজীপুর সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইলিয়াস জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
