পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর ছুরিকাঘাতে শারমিন আক্তার রুমা (২৫) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী রতন মিয়া পলাতক রয়েছেন।
শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কেওয়া বাজার এলাকায় ইব্রাহিমের ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শারমিন আক্তার রুমা নেত্রকোনা সদর উপজেলার ফাজিলপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে শ্রীপুর উপজেলার কেওয়া বাজার এলাকায় ইব্রাহিমের ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং স্থানীয় পারটেক্স কারখানায় কাজ করতেন।
পুলিশ ও স্বজনদের ভাষ্য, রতন মিয়া ছিলেন রুমার দ্বিতীয় স্বামী। শুক্রবার জুমার নামাজের পর তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে রতন মিয়া পিছন দিক থেকে রুমার পিঠে ছুরিকাঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের এক সহকর্মী জানান, গত পাঁচ দিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। এ কারণে রুমা স্বামীর ফোনও রিসিভ করছিলেন না। শুক্রবার বিকেলে কারখানা থেকে বের হলে রতন মিয়া তাকে ডাক দেন। কিন্তু রুমা কথা বলতে রাজি হননি। পরে রাস্তায় ঝগড়া হলে আশপাশের লোকজনের কথা ভেবে তাদের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রতন মিয়া ব্যাগ থেকে ছুরি বের করে বলেন, ‘এটা নিয়ে আসছি তোকে হত্যা করতে।’ এরপরই তিনি রুমার পিঠে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. বিজন মালাকার বলেন, ওই নারীর পিঠে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজ উদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
