বুধবার, জানুয়ারি ৭, ২০২৬
No menu items!
বাড়িঅপরাধশ্রীপুরে ভয়াবহ অপরাধের ছায়া: ৩৬৫ দিনে ৩৩ খুন, ৪২ ধর্ষণ, ১১০ মরদেহ...

শ্রীপুরে ভয়াবহ অপরাধের ছায়া: ৩৬৫ দিনে ৩৩ খুন, ৪২ ধর্ষণ, ১১০ মরদেহ উদ্ধার

শিল্প-অধ্যুষিত গাজীপুরের শ্রীপুরে ২০২৫ সালে মাদক, ছিনতাই, জমি বিরোধ, হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের ঘটনা ব্যাপকতা পেয়েছে। থানা সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছরে উপজেলায় অন্তত ৩৩টি হত্যাকাণ্ড, ৪২টি ধর্ষণ মামলা এবং ৭০টি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের হয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশ ১১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। তবে আত্মহত্যা ও অপমৃত্যুর বেশ কয়েকটি ঘটনায় স্বজনেরা মামলা না করায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক ব্যবসার বিস্তার, ছিনতাই এবং জমি জবরদখলকে কেন্দ্র করেই শ্রীপুরে অধিকাংশ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে। গত বছরের বিভিন্ন ঘটনায় এর স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা গেছে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পৌরসভার মসজিদ মোড় এলাকায় মধ্যে রাতে স্ত্রী সন্তানের সামনে হাসিবুল ইসলাম বাদশা নামে এক পল্লী চিকিৎসককে ইট ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে একটি কিশোর গ্যাং। গ্যাং লিডার রুবেলের নেতৃত্বে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। গত বছরের (৩০ এপ্রিল) উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের নানাইয়া গ্রামে মাদকাসক্ত ছেলে আনোয়ার হোসেনকে ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন বাবা মোহাম্মদ আলী। পরের দিন সকালে তিনি নিজেই থানায় উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পণ করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ছেলের লাগামহীন মাদকাসক্তি ও নির্যাতন থেকেই এ চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে তিনি জানান।
এ ঘটনার পরের দিন, গত বছর ১লা মে উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের যোগীরসিট গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মো. নাজমুল ইসলাম নামের এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় প্রতিবেশী মফিজ উদ্দিনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও গত ৯ মার্চ পৌরসভার গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি এলাকায় গার্মেন্টস কর্মী মো. রেজাউল করিমকে হাত-পা বেঁধে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি শাহাদাত হোসেন শান্ত ও নূরুল ইসলাম ওরফে পাগলা মামু জড়িত। ২০২৫ সালের শেষ দিকে গত ২৩ ডিসেম্বর গোসিঙ্গা ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামে জাসাস নেতা ফরিদ সরকারকে ইটভাটায় ডেকে নিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে।
শুধু হত্যাকাণ্ড নয়, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাও শ্রীপুরে উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। গত ২৪ অক্টোবর পৌরসভার মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় এক মাদ্রাসার শিশুশিক্ষার্থীকে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে মাদ্রাসাশিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয়দের গণপিটুনিতে তিনি আহত হন এবং পুলিশ তাঁকে আটক করে। এ ছাড়া ১০ জানুয়ারি পৌরসভার ফখরুদ্দীন এলাকায় এক গার্মেন্টস শ্রমিকের বোনকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। দুদিন পর পুলিশ একটি পরিত্যক্ত বসতবাড়ি থেকে ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর ভাইকে উদ্ধার করে।

শ্রীপুর সচেতন নাগরিক ফোরামের সভাপতি রৌশন হাসান রুবেল বলেন, “এখনই সময় আমাদের সবাইকে সচেতন হওয়ার। শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর নির্ভর করে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”
পুলিশের বক্তব্য
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, “গত বছর ৩৩টি হত্যাকাণ্ডের অধিকাংশ রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। বেশির ভাগ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনায় ৪২টি এবং অপমৃত্যুর ঘটনায় ৭০টি মামলা হয়েছে। কিছু আত্মহত্যার ঘটনায় স্বজনেরা মামলা করেননি।”

Notify of
guest
0 Comments
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
আরো দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ