গাজীপুর প্রতিনিধি : মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করে বাহিনীর নিজস্ব পতাকা উত্তোলনের ঘটনায় গাজীপুর জুড়ে বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
শনিবার সকালে সফিপুর এলাকায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী একাডেমিতে দেশের সবচেয়ে বড় ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ড স্থাপন ও উদ্বোধন উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মহান শহীদ দিবসের তাৎপর্য সামনে রেখে সকাল ১১টায় নতুন নির্মিত ১২০ ফুট উচ্চতার ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ডে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। এ উপলক্ষে একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রয়োজনীয় আয়োজনও সম্পন্ন করা হয়।
তবে উদ্বোধনের পর জাতীয় পতাকার পরিবর্তে আনসার ও ভিডিপির প্রায় ২৮ ফুট দৈর্ঘ্যের নিজস্ব পতাকা উত্তোলন করা হয়। এ সময় মহাপরিচালককে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয় এবং কর্মকর্তারা সম্মান জানান।
পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জাতীয় পতাকা উত্তোলন না হওয়ায় উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে তাৎক্ষণিক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ড স্থাপন ও বাহিনীর পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে এবং এটি সার্বক্ষণিকভাবে উত্তোলিত থাকবে।
তবে তার এই বক্তব্যে অনেকেই সন্তুষ্ট হতে পারেননি। একপর্যায়ে তিনি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। পরে উপস্থিত সাধারণ আনসার সদস্যরা উদ্যোগ নিয়ে একই ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ডে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। অনেকের মতে, এটি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা ছিল।
সচেতন মহলের অভিমত, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত আবেগঘন ও তাৎপর্যপূর্ণ দিবস। এমন দিনে জাতীয় পতাকাই সর্বোচ্চ মর্যাদা পাওয়ার কথা। ফলে অন্য কোনো পতাকা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
এ ঘটনায় প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি উঠেছে। অনুষ্ঠানে আনসার ও ভিডিপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
