সোমবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৫
No menu items!
বাড়িজাতীয়লালনের তিরোধান দিবসকে জাতীয় দিবস ঘোষণা করায় কেন্দ্রীয় সাধুসংঘের অভিনন্দন

লালনের তিরোধান দিবসকে জাতীয় দিবস ঘোষণা করায় কেন্দ্রীয় সাধুসংঘের অভিনন্দন

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: লালনের তিরোধান দিবসকে ‘ক’ শ্রেণির জাতীয় দিবস ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তিরোধান দিবসকে  জাতীয় দিবস ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়লে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বাগুটিয়া বাজারে অবস্থিত কেন্দ্রীয় সাধু সংঘের সদস্যরা  আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠে।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতার নির্দেশে দ্রুত এক জরুরি সভা আহ্বান করা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন—কেন্দ্রীয় সাধু সংঘের সভাপতি বাবু হরি মোহন পাল, প্রতিষ্ঠাতা সিনিয়র সাংবাদিক শাহ আলম, নির্বাহী সভাপতি ছোবাহান তালুকদার, সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আল কামাল হুসাইন রতন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শিল্পী খোকন, পাঠাগার সভাপতি শাহানুর রহমান শাহীনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও সাধু-সজ্জনবৃন্দ।

কেন্দ্রীয় সাধু সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সিনিয়র সাংবাদিক শাহ আলম আবেগঘন কণ্ঠে বলেন—
“আজ আমাদের জীবনের এক ঐতিহাসিক দিন। লালনের দর্শন মানবতাকে পথ দেখায়, সেই দর্শন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলো। আমরা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ।”

সভাপতি হরি মোহন পাল বলেন—
“লালন আছেন তার গান ও দর্শনের মধ্যে। জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে তার শিক্ষা ধারণে অনুপ্রাণিত করবে।”

নির্বাহী সভাপতি ছোবাহান তালুকদার অভিমত ব্যক্ত করেন—
“এটি কেবল সাংস্কৃতিক স্বীকৃতি নয়, বরং মানবতার জয়গান। আজকের এই স্বীকৃতি লালনপ্রেমীদের আত্মতৃপ্ত করেছে।”

সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আল কামাল হুসাইন রতন বলেন—
“লালনের গান আমাদের সত্য, সরলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ শিখিয়েছে। জাতীয় দিবসের মর্যাদা আমাদের সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করবে।”

শিল্পী খোকন জানান—
“জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হলে শিল্পীরা নতুন অনুপ্রেরণা পাবে। লালনের গান বাংলার চেতনার অবিচ্ছেদ্য অংশ।”

পাঠাগার সভাপতি শাহানুর রহমান শাহীন বলেন—
“আমরা লালন সাহিত্য সংরক্ষণে নতুন কর্মসূচি নেবো। শিগগিরই পাঠাগারে বিশেষ কর্মশালা আয়োজন করা হবে।”

এসময় স্থানীয় শিল্পীরা গান গেয়ে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। তারা বলেন—
“আমরা লালনের গান গেয়ে বড় হয়েছি। আজকের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আমাদের জন্য এক গৌরবের ও প্রেরণার দিন।”
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—এই কেন্দ্রীয় সাধু সংঘ জাতীয় পর্যায়ে একাধিকবার লালন সঙ্গীত প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছে এবং গত ১০ বছর ধরে তিনদিন ব্যাপী সাধু সম্মেলন ও লালন মেলার আয়োজন করে আসছে।

সংবাদে আনন্দঘন পরিবেশ প্রতিফলিত হয়—ঘোষণার খবরে শুধু কেন্দ্রীয় সাধু সংঘ নয়, সারাদেশে লালন ভক্তনুরাগী, বাউল, ফকির, সাধু, গোসাই, পীর মাশায়েক সহ অসাম্প্রদায়িক সাধারন মানুষরা উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সবার দাবি, আগামী ১৭ অক্টোবর লালনের তিরোধান দিবসে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সারাদেশে ছুটি ঘোষনা, দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালিত হোক।

Notify of
guest
0 Comments
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
আরো দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ