ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাস (২৭) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আরও দুই আসামির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল রোববার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাত হোসেন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন নিবির ইসলাম ওরফে অনিক (২০) ও মো. এরশাদ (২৭)। নিবির ইসলামের বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ধানীখোলা গ্রামে এবং মো. এরশাদের বাড়ি নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার নেহারা জয়পুর গ্রামে।
পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার নিবির ইসলামকে এবং বুধবার সন্ধ্যায় মো. এরশাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে নিবির ইসলামের বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে বুধবার এবং এরশাদের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত উভয়ের বিরুদ্ধে দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ময়মনসিংহ আদালতের পরিদর্শক পি এস এম মোস্তাছিনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ মামলায় এর আগে আরও ১৮ জন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার কর্মী দীপু চন্দ্র দাসকে ধরে নিয়ে মারধর করা হয়। পরে তাঁকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহটি কারখানা এলাকা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকার সড়ক বিভাজকের একটি গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
নিহত দীপু চন্দ্র দাস তারাকান্দা উপজেলার বানিহালা ইউনিয়নের মোকামিয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় নিহতের ভাই অপু চন্দ্র দাস বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, এ পর্যন্ত এ মামলায় মোট ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
