গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী মধ্যপাড়া এলাকায় শাশুড়িকে হত্যা করে ডাকাতির নাটক সাজানোর ঘটনা উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুত্রবধূসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন এ তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, ঘটনাটি প্রথমে ডাকাতি বলে প্রচার করা হলেও তদন্তে উঠে আসে ভিন্ন চিত্র। প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, নিহত আছমা আক্তার নিজ ঘরে ঘুমিয়ে থাকার সময় তার পুত্রবধূ আরিফা আক্তার উর্মী সহযোগীদের নিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন। তারা লকারে থাকা প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি করার সময় আছমা আক্তার জেগে ওঠেন। এতে ধরা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পর উর্মী এলাকাবাসীর কাছে ডাকাতির গল্প সাজিয়ে বিষয়টি ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন,পুত্রবধূ আরিফা আক্তার উর্মী, পিরুজালী আলিমপাড়া গ্রামের উজ্জ্বল হোসেন (৪৬) এবং একই এলাকার শাহনাজ বেগম (৪৫)।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সুজন রঞ্জন তালুকদার জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে এবং প্রাথমিকভাবে ডাকাতির দাবি যাচাইয়ে তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা সম্ভব হয়।
জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার কর বলেন, সন্দেহের ভিত্তিতে পুত্রবধূকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যার রহস্য উন্মোচিত হয়। পরে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় জয়দেবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
