গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় ঈদ বোনাসের দাবিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসে জড়ো হয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অর্ধ শতাধিক দপ্তরি। রোববার (১৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের দপ্তরিরা উপজেলা শিক্ষা অফিস প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে তাদের দাবি তুলে ধরেন।
দপ্তরিদের অভিযোগ, প্রতি বছর ঈদ উপলক্ষে তাদের উৎসব ভাতা বা ঈদ বোনাস দেওয়া হলেও চলতি বছর তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হঠাৎ করে এই সিদ্ধান্তে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত বোনাস দেওয়ার দাবি জানান।
বাঁশবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি আশরাফুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর ঈদের আগে তারা উৎসব ভাতা পেয়ে থাকেন। কিন্তু এ বছর হঠাৎ করে সেই ভাতা বন্ধ করে দেওয়ায় তারা হতাশ ও ক্ষুব্ধ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক দপ্তরি অভিযোগ করেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি রয়েছে। এমনকি শিক্ষা অফিসারকেও তারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেন।
দপ্তরিদের কয়েকজন জানান, উপজেলার প্রায় ১৬৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৯৬ জন দপ্তরি কর্মরত আছেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু সামান্য এই উৎসব ভাতাও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
তারা বলেন, ঈদকে সামনে রেখে পরিবারের খরচ মেটাতে এই বোনাস তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দ্রুত ঈদ বোনাস চালু করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
মাওনা ১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি আল আমিন বলেন, “আজ সকাল ৯টার দিকে উপজেলার অর্ধ শতাধিক দপ্তরি উপজেলা শিক্ষা অফিসের সামনে জড়ো হই। পরে শিক্ষা অফিসার ফাতেমা নাসরিনকে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন বরাদ্দ নেই। কিন্তু আমরা জানতে পেরেছি সারাদেশের অন্যান্য উপজেলা এবং গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলাতেও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তাহলে শ্রীপুরে কেন দেওয়া হবে না?”
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফাতেমা নাসরিন সীমার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদ ভূইয়া বলেন, “বিষয়টি আমি জেনেছি। তবে এটি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার দেখার বিষয়।”
দপ্তরিরা আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত তাদের দাবির বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
