সোমবার, মার্চ ৯, ২০২৬
No menu items!
বাড়িঅপরাধসীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান: ৪ হাজার সদস্য মোতায়েন, ড্রোন...

সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান: ৪ হাজার সদস্য মোতায়েন, ড্রোন ও হেলিকপ্টারে আকাশ নজরদারি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধীদের আস্তানা নির্মূল ও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে বড় ধরনের সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে যৌথ বাহিনী।

সোমবার (৯ মার্চ) ফজরের নামাজের পরপরই সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে এই অভিযান শুরু হয়। এতে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি এবং এপিবিএনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় চার হাজার সদস্য অংশ নিচ্ছেন। পুরো এলাকা বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর কর্ডোনের মধ্যে রাখা হয়েছে।
অভিযানের কৌশল হিসেবে জঙ্গল সলিমপুরের প্রতিটি প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে তল্লাশিচৌকি, যাতে কোনো চিহ্নিত অপরাধী এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারে।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে সেনাবাহিনী ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি চালাচ্ছেন। অভিযানে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও করা হচ্ছে। ড্রোন ও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আকাশপথে নজরদারি চালানো হচ্ছে। এছাড়া মাটির নিচে বা ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও বিস্ফোরক শনাক্ত করতে বিশেষজ্ঞ ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে প্রায় ৫৫০ জন সেনাসদস্য, ১ হাজার ৮০০ পুলিশ সদস্য, ৩৩০ জন এপিবিএন সদস্য, ৪০০ র‍্যাব সদস্য এবং ১২০ জন বিজিবি সদস্য অংশ নিচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় এটিই সবচেয়ে বড় সমন্বিত অভিযান।
গত ১৯ জানুয়ারি এই এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাব-৭ এর একজন নায়েব সুবেদার নিহত হওয়ার ঘটনার পর থেকেই সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করে। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই কমান্ডো স্টাইলের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
সীতাকুণ্ডের প্রায় ৩ হাজার একর পাহাড়ি এলাকা দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। প্রায় দুই লাখ মানুষের এই বিশাল বসতিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবৈধ প্লট বাণিজ্য ও পাহাড় দখলের রাজত্ব কায়েম করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এর আগে ২০১৭ ও ২০২২ সালেও প্রশাসন অভিযান চালানোর চেষ্টা করে সফল হয়নি। তবে এবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনায় সন্ত্রাসমুক্ত এলাকা গড়ে তুলতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযান মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত চলতে পারে। সাধারণ বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কেবল তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
দীর্ঘদিনের অপরাধ ও দখলদারিত্বের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত জঙ্গল সলিমপুরকে সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ করে তোলাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।

Notify of
guest
0 Comments
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
আরো দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ