যশোর সদর হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনকারী সাবেক কনস্টেবল সোহেল রানাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে এখনও আলোচনা রয়েছে। হাসপাতালকেন্দ্রিক দালালচক্র দমন, অনিয়মে বাধা দেওয়া এবং দরিদ্র রোগীদের সেবার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কারণে তিনি পরিচিতি পেয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি। তবে এসব দাবির স্বাধীন ও আনুষ্ঠানিক সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
যশোর সদর হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন কনস্টেবল সোহেল রানা। হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি ও স্থানীয়দের ভাষ্য, দায়িত্ব পালনকালে তিনি হাসপাতাল এলাকায় সক্রিয় দালালচক্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্যবস্থা নিতেন। কোনো ধরনের অবৈধ সুবিধা গ্রহণ না করে সরকারি নিয়ম বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতেন বলেও তাঁদের দাবি।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, হাসপাতালকেন্দ্রিক বিভিন্ন অনিয়ম থেকে অনেকের আর্থিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ থাকলেও সোহেল রানা সে পথে হাঁটেননি। তাঁরা আরও দাবি করেন, হাসপাতালের ভেতরে দালালদের তৎপরতা, অনুমোদনবহির্ভূত প্রবেশ এবং রোগীদের হয়রানির বিরুদ্ধে তিনি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতেন। এসব বিষয়ে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের থানায়ও সোপর্দ করা হতো বলে জানিয়েছেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী।
একাধিক সূত্রের মতে, দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল দরিদ্র ও অসহায় রোগীরা যেন নির্বিঘ্নে চিকিৎসাসেবা পান। ব্যক্তিগত লাভের চেয়ে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণে হাসপাতাল এলাকায় তিনি একজন সৎ ও দায়িত্বশীল পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেন অনেকে।
তবে সোহেল রানার বিরুদ্ধে বা পক্ষে উত্থাপিত এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর কর্মদক্ষতা, দালালচক্রের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ কিংবা ঘুষ গ্রহণ না করার দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য নথিও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের একাংশের ভাষ্য, সোহেল রানার মতো দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব পুলিশ সদস্যদের হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পে দায়িত্ব দেওয়া হলে রোগীসেবার পরিবেশ আরও উন্নত হতে পারে।
