বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় আবারও ‘পুশইন’ (ঠেলে পাঠানো) চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (৫ জুন) লালমনিরহাট, নওগাঁ ও পঞ্চগড় সীমান্ত দিয়ে অন্তত ৬০ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয় বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে বিজিবির বাধার মুখে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেনি। বর্তমানে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছে।
বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সমস্যা সমাধানে বিএসএফের সঙ্গে একাধিক পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
লালমনিরহাটে ৩৩ জন
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম ও আদিতমারী উপজেলার তিনটি সীমান্ত এলাকা দিয়ে শুক্রবার ভোরে ৩৩ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। এর মধ্যে হাতীবান্ধার বড়খাতা সীমান্তে ১১ জন, পাটগ্রামের পয়ষট্টিবাড়ী এলাকায় ১০ জন এবং আদিতমারীর দুর্গাপুর-দীঘলটারী সীমান্তে ১২ জন ছিল।
বিজিবির বাধার মুখে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নওগাঁয় ১৭ জন
নওগাঁর সাপাহার উপজেলার কলমুডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে ১৭ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, মেইন পিলার ২৩৭-এর পাশ দিয়ে তাদের ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে হাঁপানীয়া বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা বাধা দেন।
ঘটনার পর বিজিবি বিএসএফকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে চিঠি দেয়। পরে জরুরি ব্যাটালিয়ন পর্যায়ের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। ফলে ওই ব্যক্তিরা এখনো শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
পঞ্চগড়ে ১০ জন
পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে নারী-পুরুষসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। বিজিবির টহল দল বাধা দিলে তারা সীমান্তের ভারতীয় অংশে অবস্থান নেয়।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বিজিবি সদস্যরাও সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। নীলফামারী-৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি সমাধানে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
সতর্ক অবস্থানে বিজিবি
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা একতরফা পুশইন প্রচেষ্টা রুখতে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
