শনিবার, এপ্রিল ১১, ২০২৬
No menu items!
বাড়িরাজধানীবিবেকের তাড়নায় টিকিটবিহীন ভ্রমণের বকেয়া পরিশোধ, দৃষ্টান্ত স্থাপন শ্রীপুরে

বিবেকের তাড়নায় টিকিটবিহীন ভ্রমণের বকেয়া পরিশোধ, দৃষ্টান্ত স্থাপন শ্রীপুরে

প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে টিকিট ছাড়া ট্রেনে ভ্রমণের ‘গোপন দায়’ আজ শোধ করলেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মফিজুল ইসলাম (৬০)। দীর্ঘদিনের অপরাধবোধ থেকে মুক্তি পেতে বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তিনি ২০ হাজার টাকা জমা দিয়ে নিজের দায়মুক্তি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, ১৯৭৬ থেকে ১৯৭৮ সালের মধ্যে কিশোর বয়সে কাঁঠালের ব্যবসার সুবাদে নিয়মিত ট্রেনে শ্রীপুর থেকে ঢাকায় যাতায়াত করতেন মফিজুল ইসলাম। সে সময় তিনি টিকিট ছাড়াই ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করতেন। মাঝে মাঝে দায় এড়াতে পুলিশদের কিছু অর্থ দিলেও বিষয়টি তার মনে দীর্ঘদিন অপরাধবোধ হিসেবে থেকে গেছে।
মফিজুল ইসলাম বলেন, “তখন ইচ্ছে থাকলেও টিকিট কাটতে পারিনি। ব্যবসার প্রয়োজনে ঢাকায় যাওয়া জরুরি ছিল। পুলিশের হাতে কিছু টাকা দিয়েছি, তবে রেলওয়ের কাছে দেনা থেকেই গেছে।”
দীর্ঘদিনের সেই অপরাধবোধ থেকেই সম্প্রতি বকেয়া পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তিনি শ্রীপুর রেলস্টেশনে গিয়ে সহকারী স্টেশন মাস্টারের কাছে বকেয়া পরিশোধের ইচ্ছা জানান। পরে গত ২৮ মার্চ বাংলাদেশ রেলওয়ের কোডের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকে ২০ হাজার টাকা জমা দেন, যা সরাসরি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যুক্ত হয়।
শ্রীপুর রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার সাইদুর রহমান বলেন, “পুরোনো বকেয়া স্বেচ্ছায় পরিশোধের এই উদ্যোগ সত্যিই বিরল ও প্রশংসনীয়।”
মফিজুল ইসলাম জানান, তিনি ২০ হাজার টাকা দিয়েছেন যাতে দায়মুক্তি নিশ্চিত হয়। অর্থ জমা দেওয়ার পর নিজেকে অনেক হালকা লাগছে বলেও জানান।
বর্তমানে মফিজুল ইসলাম ‘ব্যাপারীবাড়ি ফাতেমাতুয যাহেরা মহিলা মাদ্রাসা’র প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক। অতীতে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের কাছেও বকেয়া থাকা অর্থ পরিশোধ করেছেন। তার এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “যারা আগে এমন ভুল করেছেন, তাদের উচিত বকেয়া পরিশোধ করা। আর বর্তমান তরুণরা সচেতন, তারা এমন ভুল করবে না।” সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মফিজুল ইসলামের এই উদ্যোগ সততা, দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

Notify of
guest
0 Comments
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
আরো দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ