জাতীয় জীবনে আর যেন পিলখানার মতো মর্মান্তিক ও নৃশংস ঘটনা না ঘটে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং তদন্ত কমিশনের সুপারিশগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
বুধবার সকালে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থান-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একটি স্বাধীন জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিল এবং সেই কমিশনের প্রতিবেদন বর্তমানে সরকারের হাতে এসেছে। তবে ওই সময়ে প্রতিবেদন বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি। নতুন করে আর কোনো তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
তিনি বলেন, কমিশনের প্রতিবেদনে প্রায় ৭০টি সুপারিশ রয়েছে। বিচারাধীন মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া—যেগুলো আপিল ও আপিল বিভাগে রয়েছে—সেগুলো সম্পন্ন করা হবে। পাশাপাশি অন্যান্য সুপারিশ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, পিলখানার ঘটনা ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর একটি বড় হুমকি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী-কে দুর্বল করার অপচেষ্টা ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। যারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না, তারাই এমন ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন।
তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যারা জীবন দিয়েছেন, তারা চিরস্মরণীয়। পিলখানার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য উদঘাটনে তৎকালীন সরকার তদন্ত কমিটি করলেও শেষ পর্যন্ত সেই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। সরকার এখন বিদ্যমান তদন্ত কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর বলেও জানান তিনি।
