জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেছেন, জনগণের শক্তিই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি, আর সেই শক্তির প্রতিফলন ঘটে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জবাবদিহিতা ও সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি কার্যকর নেতৃত্ব গড়ে ওঠে।
রোববার (২৯ মার্চ) সংসদে সভাপতির আসন গ্রহণের পর প্রারম্ভিক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা.)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, নেতৃত্বের জন্য জবাবদিহি অপরিহার্য। এ সময় তিনি সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান, প্রয়োজন অনুযায়ী তাকে দিকনির্দেশনা ও সংশোধন করার জন্য, যাতে তিনি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
তিনি বলেন, লাখো শহীদের আত্মত্যাগ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতার ফলেই স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সেই চেতনা ধারণ করেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং স্বাধীনতার ঘোষণা, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও স্বাধীনতা-পরবর্তী রাষ্ট্র পুনর্গঠনে তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্বদান এবং ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকার কথা তুলে ধরে তাকে ‘গণতন্ত্রের মা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
ডেপুটি স্পিকার ২০২৪ সালের ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই ঐতিহাসিক আন্দোলন ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্রের দ্বার উন্মুক্ত করেছে। তিনি জুলাই-আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করা ব্যক্তিদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ আমাদের গণতান্ত্রিক কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দু, যেখানে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়। সংসদ শুধু আইন প্রণয়নের স্থান নয়, বরং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রও।
সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি কার্যকর সংসদীয় গণতন্ত্রে উভয়পক্ষই গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধী দলকে তিনি গণতন্ত্রের অপরিহার্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমেই সংসদ আরও কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে।
সংসদ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা তার প্রধান দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি জানান, এ লক্ষ্যে তিনি দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। সকল সদস্যের অধিকার, মর্যাদা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি।
সংসদের মর্যাদা রক্ষায় শালীনতা, যুক্তি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মতভেদ থাকলেও তা যেন গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
জাতীয় সংসদকে জাতির দর্পণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।বক্তব্যের শেষে তিনি মহান আল্লাহর নিকট দোয়া করেন, যেন সবাই সত্য ও ন্যায়ের পথে থেকে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তুলতে পারেন।
