ঢাকার কেরানীগঞ্জে সড়কের দুই পাশে অনিয়ন্ত্রিতভাবে জমে থাকা বর্জ্য কার্যত অনেক স্থানে সড়ককেই ডাম্পিং স্টেশনে পরিণত করেছে। মাসের পর মাস এসব ময়লা অপসারণ না হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে, পাশাপাশি সৃষ্টি হয়েছে গুরুতর জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের তেঘরিয়া, করেরগাও, ঝিলমিল, শুভাঢ্যা, আগানগর, কালিন্দী ও কলাতিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে সড়কের দুই পাশে ময়লার স্তূপ জমে আছে। কোথাও আবাসিক এলাকার পাশে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে, আবার কোথাও ফাঁকা জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে স্থায়ী ভাগাড়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এসব বর্জ্য অপসারণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব এবং নজরদারির ঘাটতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। বৃষ্টি হলে পচা বর্জ্য পানির সঙ্গে সড়কে ছড়িয়ে পড়ে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
তেঘরিয়ার করেরগাও এলাকায় প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে সড়কের পাশে ময়লার স্তূপ জমে সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
পথচারী সোহেল রানা বলেন, “প্রকাশ্যে ময়লা ফেলা হচ্ছে, কিন্তু দেখার যেন কেউ নেই। দুর্গন্ধে এই সড়ক দিয়ে হাঁটা দায় হয়ে গেছে।”
ঝিলমিল এলাকার শামীম আহমেদ বলেন, “প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করতে হয়, কিন্তু পচা ময়লার গন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসে।”
স্থানীয় শিক্ষার্থী আবির হোসেন জানায়, কালিন্দী এলাকায় সড়কের পাশে ময়লার স্তূপের কারণে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে নিয়মিত দুর্ভোগ হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, খোলা জায়গায় এভাবে বর্জ্য ফেলে রাখলে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ও অন্যান্য সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মোকাদ্দেস বলেন, “এ ধরনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সরাসরি জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। দ্রুত নিয়ন্ত্রণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।”
এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উমর ফারুক বলেন, “বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে সড়কের পাশে বর্জ্য ফেলা বন্ধ এবং জমে থাকা ময়লা অপসারণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
