বাড়িজাতীয়আদর্শ শিক্ষক জিল্লুর রহমানের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আদর্শ শিক্ষক জিল্লুর রহমানের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

একজন আদর্শ শিক্ষক শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না, তিনি গড়ে তোলেন একটি প্রজন্ম, নির্মাণ করেন একটি সমাজ। গাজীপুরের শিক্ষা অঙ্গনে তেমনই এক শ্রদ্ধেয় নাম প্রয়াত প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমান। সততা, ন্যায়নিষ্ঠা, দেশপ্রেম, শিক্ষার প্রসার এবং সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য তিনি আজও অসংখ্য শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীর হৃদয়ে বেঁচে আছেন। এই গুণী শিক্ষকের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ, ৯ জুলাই।

২০০৪ সালের এই দিনে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় সকলের কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। ১৯৪১ সালের ১ জানুয়ারি তৎকালীন ঢাকা জেলার (বর্তমান গাজীপুর) মির্জাপুর ইউনিয়নের পূর্ব ডগরি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জিল্লুর রহমান। ডগরি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করে ভাওয়াল মির্জাপুর হাজী জমির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিকুলেশন, টাঙ্গাইলের সাদাত কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ১৯৬২ সালে মোহাম্মদ আলী কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
একই বছর শিক্ষকতা পেশায় যোগ দিয়ে ভাওয়াল মির্জাপুর হাজী জমির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে সাকাস্বর উচ্চ বিদ্যালয়, কাউলতিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও পিরুজালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষা বিস্তারের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে তিনি এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন ডগরী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। তাঁর হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি আজও এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে।
জিল্লুর রহমান শুধু একজন শিক্ষকই ছিলেন না, ছিলেন একজন সংস্কৃতিমনা সংগঠকও। বিদ্যালয়ের নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন সামাজিক আয়োজন তাঁর নেতৃত্বে প্রাণবন্ত হয়ে উঠত। তিনি বিশ্বাস করতেন, একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত শিক্ষা শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়; নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধই একজন মানুষকে পরিপূর্ণ করে তোলে। সেই আদর্শেই তিনি গড়ে তুলেছেন অসংখ্য শিক্ষার্থী, যাঁদের অনেকেই আজ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত।
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি স্থানীয় জনগণ ও সাহসী ছাত্রদের সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতার পরও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৭৯ সালে তৎকালীন সরকারের আমলে নিজ গ্রাম পূর্ব ডগরির গ্রাম সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে অবদান রাখেন।
প্রয়াত জিল্লুর রহমানের কন্যা, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কলেজের অধ্যাপক ড. জেবুন্নেছা শিউলি বলেন, “বাবার জীবন ছিল ন্যায়, সততা ও আদর্শের প্রতিচ্ছবি। তিনি অন্যায়ের সঙ্গে কখনো আপস করেননি। তাঁর কাছ থেকেই আমরা মানবিকতা, সত্যনিষ্ঠা ও মানুষের জন্য কাজ করার শিক্ষা পেয়েছি।”
মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে মাহবুবুর রহমান ও হাবিবুর রহমান, তিন মেয়ে ড. জেবুন্নেছা শিউলি, শাহানাজ সুলতানা ও সাঈদা সুলতানাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, গুণগ্রাহী, সহকর্মী এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থী রেখে গেছেন। তাঁর আদর্শ, কর্ম ও অবদান গাজীপুরের শিক্ষা অঙ্গনে আগামী প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

Notify of
0 Comments
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
আরো দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ