দীর্ঘ ১৮ মাস দায়িত্ব পালন শেষে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রাক্কালে জাতির উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, দেশের জনগণের ঐক্য, ত্যাগ ও অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময় পর একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক ধারার জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণের শুরুতে তিনি দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর পর এমন একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি রচনা করেছে।”
তিনি উল্লেখ করেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রীয় যন্ত্র ভেঙে পড়া অবস্থায় দায়িত্ব নিয়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দেশকে সচল করা। সেই সংকট কাটিয়ে সরকার তিনটি প্রধান লক্ষ্য—সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন—বাস্তবায়নে কাজ করেছে।
নির্বাচন ও গণতন্ত্রের অগ্রগতি
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন কেবল ক্ষমতা হস্তান্তর নয়, বরং এটি গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম। বিজয়ী ও পরাজিত উভয় প্রার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, “হার-জিতই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।”
তিনি দাবি করেন, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা ফিরেছে।
সংস্কার ও আইনগত পরিবর্তন
ভাষণে তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় ১৩০টি নতুন আইন ও সংশোধনী এবং ৬০০টি নির্বাহী আদেশ জারি করেছে। বিচার বিভাগকে শক্তিশালী করা, মানবাধিকার সুরক্ষা, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার সংস্কৃতি বন্ধে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
পুলিশকে জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতেও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
নারী ও শিশু সুরক্ষা
নারীর নিরাপত্তা ও সমান অধিকারের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, যৌন হয়রানি ও পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে নতুন আইন করা হয়েছে, যাতে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
অর্থনীতি পুনরুদ্ধার
অর্থনৈতিক খাতের দুরবস্থা কাটিয়ে ওঠার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যাংকিং ও রাজস্ব ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার আনা হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং প্রবাসীদের রেমিট্যান্স অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে বাজার তদারকি ও টিসিবির কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
পররাষ্ট্রনীতি ও কৌশলগত সম্পর্ক
তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোহিঙ্গা সংকট আবারও গুরুত্ব পেয়েছে এবং জাতিসংঘের সহযোগিতা জ
