আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ইতিহাসে প্রথম মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার দীর্ঘ এক যুগ পর আত্মসমর্পণ করেছেন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখায় সশরীরে হাজির হয়ে তিনি আত্মসমর্পণের আবেদন দাখিল করেন। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকায় আবেদনের ওপর তাৎক্ষণিক কোনো শুনানি হয়নি। আবেদন জমা দেওয়ার পর তিনি ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।
ফরিদপুরের আলোচিত এই যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১১ সালে বিচার শুরু হয়। বিচার প্রক্রিয়া চলাকালেই তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে এবং পরবর্তীতে পাকিস্তানে পালিয়ে যান। তার অনুপস্থিতিতেই ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর তিন সদস্যের বেঞ্চ তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন।
দীর্ঘ ১৩ বছর পলাতক থাকার পর গত বছরের অক্টোবরে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং সাজা স্থগিত চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ এক বছরের জন্য স্থগিত করে।
বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে ফরিদপুর অঞ্চলে সংঘটিত আটটি সুনির্দিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়, যার মধ্যে সাতটি অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত হয়েছে। রায়ে তার বিরুদ্ধে হত্যা, নারী নির্যাতন, অপহরণ, মানুষ আটকে রাখা, বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনের অভিযোগের অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়। ফরিদপুর অঞ্চলে তিনি ‘ত্রাস’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
তার হঠাৎ প্রকাশ্যে আত্মসমর্পণ এবং সরকারি আদেশে সাজা স্থগিত থাকার বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক ও আইনি মহলে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। আইনজীবীরা জানান, পলাতক থাকার কারণে এতদিন তার আপিল করার সুযোগ ছিল না। আত্মসমর্পণের মাধ্যমে তিনি এখন আইনি প্রক্রিয়ায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিতে চাইছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচারিক প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পরিণতির দিকে তাকিয়ে আছেন।
