মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আলোচনা-সমালোচনা ও গবেষণার নামে মুক্তিযুদ্ধের গৌরব খাটো করা যাবে না।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সভায় তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র জিয়াউর রহমান। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে গবেষণা ও আলোচনা করবে, তবে এমন কিছু বলা উচিত নয় যা স্বাধীনতার মূল ইতিহাসকে খাটো করে।
তিনি আরও বলেন, “অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, আর অতীত ভুলে গেলে দুই চোখ অন্ধ।” গত ১৭ বছরে অতীত নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনা দেশের প্রকৃত ইতিহাসকে আড়াল করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, দেশের সম্পদ সীমিত হলেও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে যেকোনো সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।
বিকেল ৩টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আলোচনা সভা শুরু হয়। বিকেল ৩টা ৫৭ মিনিটে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন তারেক রহমান। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-এর সভাপতিত্বে এবং প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অনন্য ও অবিসংবাদিত। তিনি দাবি করেন, চট্টগ্রাম থেকে বিদ্রোহ ঘোষণা করে স্বাধীনতার ডাক দেন জিয়াউর রহমান এবং সেই ঘোষণার মাধ্যমেই স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়।
তিনি আরও বলেন, অনেকেই সংবিধানের প্রস্তাবনায় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্যান্য আন্দোলনকে সমান করার চেষ্টা করেছেন, যা সঠিক নয়। মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস বিকৃত না করে সবার অবদান স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সভায় বক্তারা বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করে সত্যনির্ভর ইতিহাস প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। একই সঙ্গে একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
