মাদারীপুরে বিয়ের অনুষ্ঠানে চেয়ার নিয়ে বসাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয় এবং অন্তত ১৫টি বসতঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
রোববার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যায় পৌর শহরের থানতলী এলাকায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়ে তা গভীর রাত পেরিয়ে সোমবার ভোর পর্যন্ত গড়ায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার শহরের প্লানেট কমিউনিটি সেন্টারে পাকদী এলাকার শাহজাহানের ছেলে, ইতালি প্রবাসী মামুনের বিয়ের অনুষ্ঠানে চেয়ার নিয়ে বসাকে কেন্দ্র করে থানতলী এলাকার ফজল খাঁর ছেলে আকিব এবং পাকদী এলাকার দবির মুন্সির ছেলে মঈন মুন্সির মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে উপস্থিত অতিথিরা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করেন।
তবে ওই ঘটনার জের ধরে রোববার সন্ধ্যায় আকিব ও মঈন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাত ৯টার দিকে আবারও উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু সোমবার ভোররাতে ফের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় পাকদী এলাকায় অতর্কিত হামলায় অন্তত ১৫টি বসতঘর ভাঙচুর করা হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।
আকিব খান অভিযোগ করেন, মঈন মুন্সির লোকজন তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। অন্যদিকে মঈন মুন্সির দাবি, চেয়ার সরিয়ে বসতে বলাকে কেন্দ্র করে আকিবের লোকজন প্রথমে হামলা চালায়।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
