এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের কঠোরতা আনতে যাচ্ছে সরকার। নকল, প্রশ্নফাঁস ও প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতি দমনে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা চলতি সংসদ অধিবেশনেই পাস হতে পারে।
জানা গেছে, এ সংক্রান্ত একটি আইনের খসড়া ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়েছে। মন্ত্রিসভা কিছু সংশোধনী দেওয়ার পর তা চূড়ান্ত করে সংসদে পাসের প্রস্তুতি চলছে। নতুন আইনে শিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা নকলের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদেরও শাস্তির আওতায় আনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
খসড়া অনুযায়ী, ডিজিটাল মাধ্যমে প্রশ্নফাঁস বা জালিয়াতির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জড়িত থাকলে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানা করা হতে পারে। পাশাপাশি সংঘবদ্ধ চক্রের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এছাড়া, বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার, দ্রুত বিচার এবং ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে মামলা নিষ্পত্তির বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদারে প্রবেশাধিকার সীমিত করার প্রস্তাবও রয়েছে। মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ছাড়া অন্য কারও প্রবেশ নিষিদ্ধ করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রশ্নফাঁস, প্রক্সি পরীক্ষা ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণা বন্ধে বিদ্যমান আইনের সীমাবদ্ধতা দূর করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। শুধু এসএসসি ও এইচএসসি নয়, চাকরির পরীক্ষাসহ সব ধরনের পরীক্ষায় অনিয়ম দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ বলেন, নতুন আইনটি প্রযুক্তিগতভাবে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বড় পরিবর্তন আসবে। তবে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি এর বাস্তব প্রয়োগই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
এসএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বিশেষ ১০ নির্দেশনা:
আগামী ২১ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি ও সমমান পরীক্ষাকে সামনে রেখে সরকার ইতোমধ্যে ১০টি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে—
প্রতিটি কেন্দ্র ও কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও সচল রাখা
ধারণকৃত ভিডিও সংরক্ষণ ও প্রয়োজনে সরবরাহ
প্রতিটি কক্ষে ঘড়ি স্থাপন
পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন
কেন্দ্রসচিব ছাড়া মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ
পরীক্ষার্থীদের দেহ তল্লাশি নিশ্চিত করা
নকল প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা
প্রবেশপথে নির্দেশনা টানানো
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা
বোর্ডের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা
সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পরীক্ষায় শৃঙ্খলা ফিরবে এবং অনিয়ম অনেকাংশে কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
