আজ মহান একুশে ফেব্রুয়ারি, শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ভাষার মর্যাদা রক্ষার সংগ্রামে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে জাতি। বাঙালির আত্মপরিচয় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াকু ইতিহাসের গৌরবোজ্জ্বল এই দিনটির ৭৫ বছর পূর্ণ হলো আজ।
দিবসের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার–এ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু করেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, কূটনীতিক, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং পরে সর্বস্তরের মানুষের জন্য শহীদ মিনার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে ভাষা আন্দোলনের শহীদ রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার ও শফিউরসহ নাম না-জানা সকল শহীদের স্মরণ করে বলেন, ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালির জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটে এবং স্বাধীনতার বীজ রোপিত হয়। তিনি বিশ্বের সব ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে ভাষা ও সংস্কৃতির পারস্পরিক সম্মান প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু ভাষার অধিকার নয়, বরং বাঙালির স্বাধিকার, গণতন্ত্র ও সাংস্কৃতিক চেতনার প্রতীক। ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। তিনি বাংলা ভাষার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী বিপন্ন ভাষা সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রক্তঝরা প্রেক্ষাপট
১৯৫২ সালের এই দিনে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ‘উর্দুই একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’ ঘোষণার প্রতিবাদে ছাত্রসমাজ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। মিছিলে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার, শফিউরসহ অনেকে। তাঁদের আত্মত্যাগই পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তি রচনা করে।
দিনব্যাপী কর্মসূচি
দিবসটি উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি। দেশের সব সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ অন্যান্য টেলিভিশন ও রেডিওতে প্রচার করা হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।
শিশু-কিশোরদের জন্য চিত্রাঙ্কন, কবিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করছে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি। বইপ্রেমীদের জন্য মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলার আয়োজন করেছে বাংলা একাডেমি।
এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরসহ বিভিন্ন জাদুঘর ও প্রত্নস্থান শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা টিকিটে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। ধর্মীয় উপাসনালয়ে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। অমর একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকারে আজও ঐক্যবদ্ধ সমগ্র জাতি। ভাষা শহীদদের ত্যাগ চিরকাল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।
