স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঋণখেলাপির পাশাপাশি ঋণের গ্যারান্টার হয়েও খেলাপি, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানি, ওয়াসা ও ভূমি করসহ বিভিন্ন সেবার বিলখেলাপি, এমপিওভুক্ত শিক্ষক, লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তি এবং দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অযোগ্য করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার পাঁচ স্তরের আইনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা আরও স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশও করা হয়েছে। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নে আইন সংশোধনের জন্য শিগগিরই স্থানীয় সরকার বিভাগে সুপারিশ পাঠাবে ইসি।
মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এসব বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত পাঁচটি আইন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেবে।
তিনি জানান, বর্তমান আইনে সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব একইভাবে উল্লেখ নেই। এ কারণে পাঁচটি আইনেই বিষয়টি সমন্বিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীকেও আইনগত কাঠামোর আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।
ইসি সচিব বলেন, শুধু ব্যক্তিগত ঋণখেলাপি নয়, কোনো ঋণের গ্যারান্টার হয়েও খেলাপি হলে তিনি প্রার্থী হতে পারবেন না। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, ওয়াসা, ভূমি করসহ সরকারি বা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের বিল বকেয়া থাকলেও প্রার্থিতা বাতিলের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা কর্ণধারের প্রতিষ্ঠানের নামে বকেয়া থাকলেও সেটিও অযোগ্যতার কারণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
এ ছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষক, লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি এবং দ্বৈত নাগরিকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না রাখার বিষয়ে কমিশন নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।
আখতার আহমেদ বলেন, কমিশনের অনুমোদিত প্রস্তাবগুলো দ্রুত স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন আচরণ বিধিমালাও সংশোধন করা হবে।
ব্রিফিংয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন ইসি সচিব। তিনি জানান, বর্তমানে ১৬ বছর বয়স থেকে নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং ১৮ বছর পূর্ণ হলে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন। তবে তথ্য সংগ্রহের বয়স আরও কমানো যায় কি না, সে বিষয়ে পর্যালোচনা চলছে। এসএসসি, অষ্টম শ্রেণি বা প্রাথমিক স্তর—কোন পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে, তা তুলনামূলক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
