ঢাকা-১৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের প্রার্থী ও দলটির আমির মামুনুল হক আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে দেওয়া শোকজ নোটিশের জবাব দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, নিজের পক্ষে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা না করে কেবল গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে লিফলেট বিতরণ করেছেন। তাই আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রশ্নই ওঠে না।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মামুনুল হক।
তিনি অভিযোগ করেন, কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই কিংবা ন্যূনতম যোগাযোগ ছাড়াই রিটার্নিং অফিসার তাকে শোকজ নোটিশ দিয়েছেন। এতে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সমান সুযোগ) বজায় থাকা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে গত মঙ্গলবার রিটার্নিং অফিসার মামুনুল হকের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চান। গত ১৩ জানুয়ারি বিকেলে নির্বাচন ভবনের সামনে লিফলেট বিতরণের একটি ছবি ও প্রতিবেদন একটি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে। এরপর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসে ব্যাখ্যা দিতে তাকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়।
শোকজের জবাব দেওয়ার পর মামুনুল হকের আইনজীবী সাংবাদিকদের বলেন, লিখিতভাবে জবাব দিয়ে সুস্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে এখানে কোনো আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়নি। বরং সরকারের পক্ষে এবং জনগণের স্বার্থে তিনি গণভোট বিষয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। একই সঙ্গে সব প্রার্থীর জন্য আচরণবিধি যেন সমানভাবে কার্যকর হয় এবং কোনো প্রার্থীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ না করা হয়—এই দাবিও তুলে ধরা হয়েছে।
এ সময় আচরণবিধি প্রতিপালনে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান মামুনুল হক। তিনি বলেন, বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারের মাধ্যমে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং এতে তার নির্বাচনী প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে।
রিটার্নিং অফিসারের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই বা সরাসরি যোগাযোগ ছাড়াই শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে, যা প্রশ্নবিদ্ধ।
লিফলেটে কেবল গণভোট ও ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা ছিল উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, নির্বাচনে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে যেন কোনো প্রার্থী হয়রানির শিকার না হন— সে বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
