যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিহত জামিল আহমেদ লিমনের (২৭) মৃত্যুর খবরে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন তার পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীরা। রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে তার শৈশবের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা হলে উঠে আসে এক মেধাবী, বিনয়ী ও স্বপ্নবাজ তরুণের গল্প।
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা লিমনের শৈশব কেটেছে গাজীপুরের শ্রীপুরে। তার বাবা জহুরুল হক উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের রঙিলা বাজার এলাকায় একটি স্পিনিং কারখানায় চাকরি করতেন। সে সুবাদে লিমন মাওনা জেএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাওনা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।
মাওনা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, “নিখোঁজ হওয়ার পর এক বন্ধুর মাধ্যমে খবর পাই। কম কথা বলা ছেলেটি পড়াশোনায় অত্যন্ত ভালো ছিল। ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিতি ছিল, প্রতিটি পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রেখেছে।”
লিমন ২০১৪ সালে ওই বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আব্দুল হালিম বলেন, “সে ক্লাসে ফার্স্টবয় ছিল। অত্যন্ত বিনয়ী ছাত্র ছিল। এমন মেধাবী ছেলের মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।”
টাঙ্গাইলের গোপালপুর এলএসডির কর্মকর্তা শামীম আল ফারুক বলেন, “অভাবের মধ্যেও লিমন ও তার ভাই অসাধারণ মেধার পরিচয় দিয়েছে। বিশেষ করে লিমনের ফলাফল সবসময়ই ভালো ছিল। এ খবর আমাদের স্তব্ধ করে দিয়েছে।”
সহপাঠীদের স্মৃতিতে লিমন ছিলেন শান্ত, ভদ্র ও সদালাপী। ২০২২ সালে শ্রীপুরের একটি রিসোর্টে আয়োজিত পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে শেষবারের মতো অনেকের সঙ্গে দেখা হয় তার। সহপাঠী তৈহিদুর রহমান অনিক বলেন, “তৃতীয় শ্রেণি থেকে এসএসসি পর্যন্ত একসঙ্গে পড়েছি। তার মৃত্যুর খবর শুনে খুব কষ্ট পেয়েছি, রাতে ঘুমাতে পারিনি।”
লিমনের বাবা জহুরুল হক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “অনেক কষ্ট করে ছেলেকে পড়িয়েছি। এখন সব শেষ হয়ে গেল। আমরা তার মরদেহের অপেক্ষায় আছি।”
বন্ধু ও সহপাঠীরা জানান, লিমনকে নিয়ে কখনো কোনো নেতিবাচক কথা শোনা যায়নি। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে তাকে স্মরণ করে শোক প্রকাশ। মেধা, পরিশ্রম আর স্বপ্নে গড়া এক তরুণের পথচলা থেমে গেল হঠাৎই যা সহজে মেনে নিতে পারছেন না তার স্বজন ও প্রিয়জনরা।
