জনপ্রত্যাশা পূরণে রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য সংবিধান সংশোধনী আনা হবে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সংস্কার, রাষ্ট্রকাঠামোর বিবর্তন এবং জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিকভাবে সমঝোতায় পৌঁছানো বিষয়গুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটির বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা সমঝোতার ভিত্তিতে এমন একটি সংশোধনী গ্রহণ করতে চাই, যা জনপ্রত্যাশা পূরণ করবে। বাংলাদেশের এ নবযাত্রা এবং রাষ্ট্রকাঠামোর বিবর্তনের ধারায় আমরা যে গণতান্ত্রিক সংস্কার করতে চাই, তার সবই সংবিধানে ধারণ করা হবে। এটি আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল, এখনও আছে।”
বিরোধীদলের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিরোধীদলের সঙ্গে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছে। দিন-তারিখ ও প্রতিনিধিদের তালিকা নির্ধারণ করে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। তবে বিরোধীদলের পক্ষ থেকে যে পাঁচজন প্রতিনিধির নাম দেওয়ার কথা ছিল, তা এখনো পাওয়া যায়নি। তারা দ্রুত নাম পাঠাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কমিটির সভাপতি জানান, শুধু বিরোধীদল নয়, সংসদের অন্যান্য সদস্য ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতও গ্রহণ করা হবে। তারা চাইলে বৈঠকে উপস্থিত হয়ে কিংবা লিখিতভাবে প্রস্তাব দিতে পারবেন। সবার মতামতের ভিত্তিতেই একটি গ্রহণযোগ্য সংশোধনী ও প্রতিবেদন প্রণয়ন করতে চায় কমিটি।
সংবিধান সংশোধনের পথে কোনো চ্যালেঞ্জ দেখছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জের চেয়ে প্রত্যাশাই বেশি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সঙ্গে জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং অনেক শহীদের স্বপ্ন জড়িয়ে আছে। সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়ন করে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। গণতান্ত্রিক ধারাকে শক্তিশালী করতে হলে সংবিধানেই তার ভিত্তি সুদৃঢ় করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, কাদের সঙ্গে আলোচনা হবে, সে বিষয়ে কমিটি বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেবে। ভবিষ্যতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও পেশাজীবীরা আগ্রহ প্রকাশ করলে তাদের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে।
জুলাই জাতীয় সনদ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সনদের ৪৮টি দফার অনেক বিষয়ে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছে। যেসব বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে, সেগুলো সংবিধান সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আর যেসব বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে, সেগুলো সে অবস্থাতেই রাখা হবে। পাশাপাশি নির্বাচনী ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি এবং জুলাই সনদে আলোচিত হলেও প্রতিফলিত হয়নি এমন বিষয়গুলোও আলোচনা সাপেক্ষে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
