গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় একটি কাঠ বাগানে ঢুকে পড়ায় ছাগলকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বাগান মালিকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোহন খান কালিয়াকৈর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনাটি উপজেলার চাপাইর ইউনিয়নের বড় গোবিন্দপুর এলাকার বৌরাচালা বাজার চৌরাস্তা মোড় সংলগ্ন এলাকায় ঘটেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুন বিকেল ৪টার দিকে মোহন খানের একটি ছাগলের বাচ্চা স্থানীয় বাসিন্দা সালাম বেপারীর কাঠ বাগানে ঢুকে পড়ে। এ সময় সালাম বেপারী ক্ষিপ্ত হয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে ছাগলটির ঘাড়ে আঘাত করেন। এতে প্রাণীটি গুরুতর আহত হয়। পরে চিকিৎসা দিয়ে রাতে বাড়িতে নিয়ে আসার পর ছাগলটি মারা যায় বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
মোহন খান বলেন, “ছাগলটি বাগানে ঢোকার পর আমি বাগান মালিককে অনুরোধ করি। কিন্তু তিনি কোনো কথা না শুনে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। পরে স্থানীয় লোকজনকে ডেকে এনে দেখাই বাগানের কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না। এলাকাবাসী জানান, ছাগলের কারণে গাছের কোনো ক্ষতি হয়নি। থানার পরামর্শে ছাগলটিকে পশু চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাই। চিকিৎসা শেষে রাতে বাড়িতে আনার পর সেটি মারা যায়। আমি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, একটি ছাগল নেটের ফাঁক দিয়ে বাগানে ঢুকে পড়েছিল। এ ঘটনায় সালাম বেপারী বাঁশ দিয়ে ছাগলটির ঘাড়ে আঘাত করেন। আহত অবস্থায় ছাগলটি পরে মারা যায়। তারা ঘটনার বিচার দাবি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তি বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন সময় প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ সহজে মুখ খুলতে পারেন না বলেও দাবি করেন তারা।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, ছাগলটি বাগানে ঢুকেছে দেখে মোহন খান সেটিকে আনতে গেলে সালাম বেপারীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাসও দেন। কিন্তু এরপরও ছাগলটিকে মারধর করা হয়।
তবে অভিযুক্তের ভাগিনা উজ্জ্বল বলেন, “ছাগলটি বাগানে ঢুকে প্রায় ১০টি গাছ নষ্ট করেছে। এ কারণে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। পরে শুনেছি ছাগলটি মারা গেছে।”
অভিযুক্তের আরেক ভাগিনাও বাগানের গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ তুলে বলেন, ছাগলটিকে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল এবং পরে সেটি মারা যাওয়ার কথা শুনেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সালাম বেপারী বলেন, “বাগানে ছাগল ঢুকেছে দেখে আমি দৌড়ে গেলে পড়ে যাই। পরে লাঠি দিয়ে আঘাত করেছি। এরপর ছাগলটি মারা গেছে।”
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
