আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে দেশব্যাপী কমিটি ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নিষ্ক্রিয় নেতাদের বাদ দিয়ে তরুণ, ত্যাগী ও সাহসী নেতৃত্বকে সামনে আনার পাশাপাশি অভিজ্ঞদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক আন্দোলন ও স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে পর্যায়ক্রমে মহানগর ও জেলা কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হবে। নেতারা মনে করছেন, দুর্বল সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে নির্বাচনে গেলে প্রতিদ্বন্দ্বীরা সুবিধা নিতে পারে—তাই এখন পুনর্গঠনই বড় চ্যালেঞ্জ।
গুলশানে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির সাম্প্রতিক বৈঠক সূত্রে জানা যায়, কোরবানির ঈদের পর চলতি বছরের অক্টোবর-নভেম্বরে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর এই কাউন্সিল ঘিরে দলীয় নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের আভাস মিলছে।
বৈঠক শেষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত করে দ্রুত কাউন্সিলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কাউন্সিল আয়োজন করতে কয়েক মাস সময় লাগবে।”
দলীয় অভ্যন্তরীণ আলোচনায় জানা গেছে, কাউন্সিলের আগেই স্থায়ী কমিটির শূন্য পদ পূরণের সম্ভাবনা রয়েছে। জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আব্দুল মঈন খান গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে গেলে কমিটিতে পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে স্পিকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সাংগঠনিক পদে না থাকায় নতুন নেতৃত্বের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
স্থায়ী কমিটিতে সম্ভাব্য নতুন সদস্য হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন রুহুল কবির রিজভী, শামসুজ্জামান দুদু, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, জয়নুল আবদিন, জয়নুল আবদিন ফারুক, নূরুল ইসলাম মনি, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও হাবিবুন নবী খান সোহেলের নাম।
ঢাকা মহানগরেও পরিবর্তনের আভাস
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক বর্তমানে সরকারের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকায় সংগঠনে সময় দিতে পারছেন না। ফলে আহ্বায়ক পদে পরিবর্তন আসতে পারে। সভাপতি হিসেবে মামুন হাসানের নাম আলোচনায় রয়েছে। সাধারণ সম্পাদক পদে মোস্তফা জামান, মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন ও আনারুজ্জামান আনোয়ারের নাম শোনা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু সংসদ সদস্য হওয়ায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে কম সময় দিতে পারছেন। এ ক্ষেত্রে সভাপতি হিসেবে হাবিবুন নবী খান সোহেল এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তানভীর আহমেদ রবিন, আ ন ম সাইফুল ইসলাম ও ফরহাদ হোসেনের নাম আলোচনায় রয়েছে। সব মিলিয়ে, জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে বিএনপি নতুন উদ্যমে রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দলীয় নেতারা মনে করছেন।
