কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে এলেও বগুড়ার চামড়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে নেই আগের মতো উৎসবের আমেজ। ট্যানারি মালিকদের কাছে দীর্ঘদিনের বকেয়া, পুঁজির সংকট ও সংরক্ষণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় জেলার চামড়া ব্যবসা এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বগুড়ায় প্রায় ২০০ চামড়া ব্যবসায়ী রয়েছেন। ঈদুল আজহা এলেই মৌসুমি ব্যবসায়ীদের যুক্ত হওয়ায় এ সংখ্যা আরও বাড়ে। জেলার মোট চামড়ার প্রায় ৬০ শতাংশ সংগ্রহ হয় কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে। তবে কয়েক বছর ধরে বাজারে অস্থিরতা ও কম দামের কারণে লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।
তাদের অভিযোগ, ট্যানারি মালিকেরা সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া কিনলেও অর্থ পরিশোধ করেন ধাপে ধাপে। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুঁজি দীর্ঘদিন আটকে থাকে। ফলে অনেকেই ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
চামড়া ব্যবসায়ী জুয়েল হোসেন বলেন, “একসময় ঈদ এলেই গোডাউন এলাকায় কর্মচাঞ্চল্য থাকত। এখন সেই পরিবেশ নেই। হাতে টাকা নেই। অনেকে ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। প্রায় ১২ বছর ধরে আমার ৬০ লাখ টাকা পাওনা। বহুবার যোগাযোগ করেও টাকা পাইনি।”
বগুড়ার চকসূত্রাপুর এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, প্রতিবছর ঈদে চামড়া কিনে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করেন তারা। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে ব্যবসা মন্দা যাচ্ছে। এর মধ্যে এবার লবণের দাম কেজিতে প্রায় দুই টাকা বেড়েছে। এতে সংরক্ষণ ব্যয় আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, ট্যানারি মালিকেরা সময়মতো বকেয়া পরিশোধ না করলে এবারও চামড়ার বাজারে ধস নামতে পারে।
এদিকে সরকার ইতোমধ্যে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছে। ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম ৫৭ থেকে ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছর ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। এছাড়া খাসির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বগুড়া জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি জাহেদুর রহমান মুক্তা বলেন, ঢাকার বিভিন্ন ট্যানারি মালিকের কাছে বগুড়ার ব্যবসায়ীদের ২০ কোটির বেশি টাকা বকেয়া রয়েছে। বছরের পর বছর এ টাকা আটকে আছে। বকেয়া আদায়ে এবার জেলা প্রশাসনের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “ঢাকার টাকা পেলে ব্যবসা কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে। না হলে নিজেদের সীমিত পুঁজিই ভরসা।”
বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, ব্যবসায়ীরা বিষয়টি তাকে জানিয়েছেন। তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি অবহিত করেছেন। মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
