ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের ঢলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক যানবাহন বিকল হয়ে পড়া, অতিরিক্ত গাড়ির চাপ এবং মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অনিয়ন্ত্রিত ওভারটেকিংয়ের কারণে সেতুর পূর্ব প্রান্ত থেকে টাঙ্গাইল শহরবাইপাস নগড় জলফৈই পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করে।
এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েন ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মহাসড়কে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করছেন।
এদিকে যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপের কারণে যাত্রীবাহী বাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে অনেক যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাক ও পিকআপে করে বাড়ির পথে রওনা হচ্ছেন।
টাঙ্গাইলের ট্রাফিক পরিদর্শক আনিছুর রহমান মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার থেকে মহাসড়কে মানুষের ঢল নেমেছে, ফলে যানবাহনের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেছে। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত যমুনা সেতু ও এর পূর্ব প্রান্তে অন্তত ১৩টি যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে। এতে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ যানবাহনের সারি সৃষ্টি হয়। পরে হাইওয়ে পুলিশের রেকার দিয়ে বিকল যানবাহন সরিয়ে নেওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
সকাল বেলায় মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, যাত্রীদের চাপ এখনও অব্যাহত রয়েছে। টাঙ্গাইল শহরবাইপাস এলাকায় পরিবহনের অপেক্ষায় অসংখ্য মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন। বাস সংকটের কারণে অনেকে ঝুঁকি নিয়েই বিকল্প যানবাহনে যাত্রা করছেন।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সেতুর দুই পাশে ৯টি করে মোট ১৮টি বুথ দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। এছাড়া মোটরসাইকেলের জন্য আলাদাভাবে দুই পাশে ২টি করে বুথ চালু রয়েছে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও বিকল গাড়ির কারণে ভোর পর্যন্ত ধীরগতি ছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় সকাল ৭টার পর পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে এবং বর্তমানে কোনো বড় যানজট নেই।তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।
