চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি), আলিম ও সমমান পরীক্ষা আজ বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সারা দেশে একযোগে শুরু হচ্ছে। এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কেন্দ্র পরিচালনা, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা ও ডিজিটাল নজরদারিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।
প্রথম দিনে দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিমের কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (বিএমটি) বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হয়ে চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত। পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্র প্রাঙ্গণে প্রবেশের সুযোগ পাবেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে ফরম পূরণ করেছেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র রয়েছেন ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। সারা দেশের দুই হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
পরীক্ষা কেন্দ্রে কঠোর নজরদারি
এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে কেন্দ্র পরিচালনার প্রায় সব পর্যায়ে। শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে কক্ষ পরিদর্শক নিয়োজিত থাকবেন। তবে কোনো কক্ষে দুজনের কম পরিদর্শক দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
পরীক্ষার্থীদের বসার ক্ষেত্রেও নির্ধারণ করা হয়েছে বিশেষ মানদণ্ড। পাঁচ ফুট বাই ছয় ফুট আকারের বেঞ্চে সর্বোচ্চ দুজন এবং চার ফুট দৈর্ঘ্যের বেঞ্চে একজন পরীক্ষার্থী বসতে পারবেন।
এ ছাড়া, বিশেষ পরিস্থিতিতে কোনো পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ের পরে কেন্দ্রে উপস্থিত হলে তার তথ্য রেজিস্টারে সংরক্ষণ করে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া যাবে।
বাধ্যতামূলক সিসিটিভি নজরদারি
পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশের সব পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোকে ক্যামেরার আইডি, পাসওয়ার্ড, ব্র্যান্ড, ডিভাইসের সিরিয়াল নম্বর এবং ডিভিআর/এনভিআর সংযোগসংক্রান্ত তথ্য শিক্ষা বোর্ডে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রত্যাশা, কঠোর তদারকি ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে এ বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন হবে।
