শনিবার, ২১ মে ২০২২ , ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

Ads

প্রকাশ :২২ জানুয়ারী ২০২২ , ০২:৩০ PM

শ্রীপুরে বাগানজুড়ে টিউলিপ ফুলের হাসি

single image

এক সম্ভ্রান্ত কৃষক পরিবারের সন্তান দেলোয়ার হোসেন।তাঁর বাবা আবদুর রাজ্জাক ছিলেন গ্রামের একজন সম্ভ্রান্ত কৃষক। তিনি জমিতে সবজিসহ বাদাম ও আখ চাষ করতেন। শিশু বয়সেই তাঁর বাবার সঙ্গে মাঠে কাজ করতেন দেলোয়ার। ওই সময় কৃষি ঘিরেই তাঁর স্বপ্ন তৈরি হয়। সিদ্ধান্ত নেন, বড় হয়ে কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার। ভালোবাসা প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম ফুল। ফুলের প্রতি ছিল তাঁর প্রগাঢ় ভালোবাসা । তাই পেশা হিসেবে ফুল ব্যবসাকেই তিনি বেছে নিয়েছেন।

মাধ্যমিক পাসের পর ২০০৪ সাল থেকে ফুল চাষ শুরু করেন। পুঁজি ছিল মাত্র চার হাজার টাকা। তা দিয়েই গ্লাডিওলাস ফুলের কিছু কন্দ কিনেছিলেন। চাষের পর চাহিদা দেখে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী থেকে আরো ২০ হাজার কন্দ কেনেন। তখন ওই ফুলের চাষ করে সাত লাখ টাকারও বেশি লাভ করেছিলেন। এরপর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। ধীরে ধীরে বিদেশি ফুল ও সবজি চাষ শুরু করেন।

১৮ বিঘাজুড়ে ফুল ও সবজির খামার তাঁর। তাঁর বড় মেয়ে মৌমিতার নামে খামারের নাম ‘মৌমিতা ফ্লাওয়ার্স’। খামারটির তিন বিঘা মাত্র তাঁর নিজের জমি। বাকি ১৫ বিঘা লিজ নেওয়া। ফুল চাষ শুরুর পর থেকেই তাঁর স্বপ্ন ছিল বাগানে টিউলিপ ফোটানোর।শীতপ্রধান দেশের ফুল টিউলিপ এখন গাজীপুরের শ্রীপুরে দেলোয়ারের বাগানে শোভা পাচ্ছে। টকটকে লাল, গাঢ় হলুদ আছে হালকা বেগুনি সহ ১০ রকমের বাহারি রঙের রাজসিক সৌন্দর্যের টিউলিপ ফুল।

পৃথিবীর প্রধান টিউলিপ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে পরিচিত নেদারল্যান্ড ।টিউলিপ মূলত শীতপ্রধান দেশের ফুল। আবহাওয়ার কারণে বাংলাদেশে টিউলিপ ফুলের চাষ এত দিন অসম্ভবই মনে করা হতো। আর এই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখিয়েছেন গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার কেওয়া পূর্বখণ্ড গ্রামের দেলোয়ার হোসেন। তাঁর বাগানজুড়ে এবারও ফুটতে শুরু করেছে নানা রঙের বাহারি টিউলিপ। নেদারল্যান্ডস থেকে টিউলিপ ফুলের বাল্ব বা কন্দ এনে রোপণ করেছিলেন তিনি। তাঁর সেই বাগানটিই এখন হয়ে উঠেছে এক টুকরো নেদারল্যান্ডস। দেলোয়ার হোসেন জানান, চার বছর ধরে তাঁর বাগানে ওরিয়েন্টাল লিলিয়াম ফুল চাষ করছেন। এর আগে জারবেরা চাষও করেন। সফল ফুল চাষি হিসেবে ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক পান তিনি।তিনি জানান, ফুলের পাশাপাশি বিদেশি বিভিন্ন সবজি চাষ করেন। গত বছর ক্যাপসিকাম চাষ করেন। এ ছাড়া একই সময় চাষ করেন স্ট্রবেরি।

এবার তিনি জি-নাইন জাতের কলার চাষ করছেন। টিউলিপ ফুল চাষে তাঁর আগ্রহ প্রসঙ্গে দেলোয়ার হোসেন জানান, এক সময় এই ফুলের চাষ বাংলাদেশে কল্পনাও করা যেত না। এর প্রয়োজন জন্য ৫ থেকে ১১ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রার । তিনি শুনেছেন, এর আগে ১৯৮৮ সালের দিকে বেলজিয়ামের তরুণ এক এনজিওকর্মী বাংলাদেশে টিউলিপ ফোটানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সফল হননি। ফুল চাষ শুরুর পর থেকেই তাঁর স্বপ্ন ছিল বাগানে টিউলিপ ফোটানোর। ২০১৮ সালে হল্যান্ডের রিচ ওয়ান নামে একটি সিড কম্পানি টিউলিপ ফুলের এক হাজার কন্দ তাঁকে উপহার দিতে চান। এর জন্য প্রস্তুতি না থাকায় সে বছর তা নেননি। পরের বছর সেখান থেকেই এক প্রজাতির চার রঙের এক হাজার কন্দ এনে তাঁর বাগানে রোপণ করেন।

রোপণের ২৫ দিন পর প্রথমে একটি টকটকে লাল ফুল ফোটে। কয়েক দিন পরই বাগানজুড়ে টিউলিপ ফোটে। এতে দারুণ উচ্ছ্বসিত আর উদ্বুদ্ধ হন তিনি। এ বছর নেদারল্যান্ডস থেকে টিউলিপের ২৫ হাজার কন্দ আনেন। তা থেকে ২০ হাজারেরও বেশি কন্দ রোপণ করেন তাঁর বাগানটিতে। তিনি জানান, এ বছর গত ১৫ জানুয়ারির দিকে তাঁর বাগানে প্রথম ফুল ফোটে।আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে ফোটবে বাকি ফুলগুলো।

তিনি জানান, ফোটার পর প্রায় ২০ থেকে ২২ দিন তা তরতাজা থাকে। দেলোয়ার জানান, আগামী বছর আরো বড় পরিসরে টিউলিপ চাষ করবেন তিনি। ফুল ফোটার পর বাগানটি ফুলপ্রেমী দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরো খবর ::

নামাজের সময়সূচী

তারিখ ২১ মে ২০২২

  • ফজর

    ৫:১৭

  • যোহর

    ১২:১৩

  • আছর

    ৪:৪৫

  • মাগরিব

    ৫:৫২

  • এশা

    ৭:০৪

  • সূর্যোদয় : ৬:৩৪
  • সূর্যাস্ত : ৫:৫২
Image

অনলাইন জরিপ

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ‘লকডাউন’ নিয়ে আপনি কি মনে করছেন?